বৃষ্টি হলেই ভেজা কাপড়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৩

শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৯০ সালে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নে শান্তিপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র সংখ্যা ১৮০ জন এবং প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হলেই বিদ্যালয়ের আঙিনায় জমে থাকে পানি। এমন অবস্থায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের কাদা পানি ভেঙে কাপড় ভিজিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। একবার শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে কাদাপানির কারণে কেউ আর শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হতে চান না। 

 


১৯৯০ সালে একটি টিনসেডে বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয়েছিল। ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি একতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে। ওই ভবন বর্তমানে জরাজীর্ণ, সেখানেই ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান চলছে। বৃষ্টিপাত হলে ছাদ চুয়ে শিক্ষার্থীদের মাথার উপরে পানি পড়ে। তিন মাস আগে ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে প্রধান শিক্ষকের টেবিলের গ্লাস ও টেবিল ভেঙে যায়।

 

 

 


বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক এলতাস উদ্দিন বলেন, শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হলে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকে ও কাদা হয়ে যায়। শিশুরা বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করতে পারে না। বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের জন্য আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বাববার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তারা কোন সমাধান দিতে পারেন নি। 
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে উপস্থিত হন, তবে অধিকাংশ শিক্ষকই বেলা সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন।

 


বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি থাকায় শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কাদাপানি ভেঙে কাপড়চোপড় ভিজিয়ে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের ভিতরে একবার কেউ প্রবেশ করলে দ্বিতীয়বার কেউ আর বের হতে চান না। সামান্য বৃষ্টিপাতে পানিতে ভরে যায় মাঠ।


শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন আহমদ তৈফুল বলেন, বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। প্রায় ৩ মাস আগে আমার কক্ষের উপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে টেবিলের গ্লাস ও টেবিল ভেঙে যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই।

 


তিনি আরও বলেন, নতুন ভবনের জন্য তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কয়েকবার আবেদন করেছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেননি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, আমি সদ্য তাহিরপুরে যোগদান করেছি। বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ আমার কাছে নতুন ভবন ও সমস্যা নিয়ে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার