বেড়েছে সবজির দাম

প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪০

বৃষ্টি, সরবরাহে ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি

টানা বৃষ্টির পর সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাঁচা বাজারে অধিকাংশ সবজিসহ কাচা পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গেল বুধবার, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার শহরের পাইকারি সবজি বাজার এবং কিচেন মার্কেটসহ বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

 


বিক্রেতারা বলছেন, এই সময়ে সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় সবজির চাষ হয়। বাইরের জেলা থেকেও প্রচুর সবজি আসে। কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় এবং আমাদের সুনামগঞ্জের সবজি চাষীদের সবজি ক্ষেত বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সবজির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরবরাহে ঘাটতি, পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ায় দামে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।

 


কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল ৭০—৮০ টাকা (পূর্বে ছিল ৫০—৬০ টাকা), ঢেঁড়শ ৮০ থেকে ৯০ (পূর্বে ছিল ৪০—৫০ টাকা), কাঁচামরিচ ১২০ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮০—২০০ টাকা,  শসা ৪০—৫০ টাকা (পূর্বে ছিল ৩০—৪০ টাকা), করলা ৮০—৯০—১০০ টাকা (পূর্বে ছিল ৫০—৬০—৭০ টাকা) বেগুন প্রকারভেদে ৭০—৮০—৯০—১০০ টাকা (পূর্বে ছিল ৪০—৫০ টাকা), শিম ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০—৯০ টাকা, মুখি  ৪০—৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০—৯০ টাকা, লাল শাক প্রকারভেদে ১৫—২০—২৫ টাকা, ডেঙ্গা শাক ২০—৩০ টাকা, নাইল্লা শাক ১৫/২০/২৫ টাকা আঁটি এবং পুঁইশাক ৪০—৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 


এছাড়া বরবটি প্রতি আঁটি ৬০—৭০ টাকা, কচুর লতি ৫০—৬০—৮০ টাকা, বেগুন ৭০—৮০—১০০ টাকা, টমেটো ১৪০—১৬০—১৮০ টাকা, কলা প্রতিহালি ৪০—৪৫ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৬০—৮০—১০০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৬০—৭০ টাকা, পেঁপে ৩০—৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।  একই পরিস্থিতি দেখা গেছে মুরগির বাজারে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি থেকে ১৭০—১৮০ ও সোনালি মুরগির কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০—৮০০, খাসির মাংস ১১০০—১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১৪০—১৫০ টাকা। তবে আলু, পেঁয়াজ, রসুনের দামে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি মানভেদে ৭০—৭৫ টাকা, দেশি আদা ১২০—১৮০ টাকা, দেশি রসুন ৮০—১২০—১৫০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৫০—১৯০—২০০ টাকা, দেশি মসুর ডাল (চিকন দানা) ১৪০ টাকা, আমদানি করা মসুর ডাল (মোটাদানা) ১১৫—১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 


চড়া মাছের বাজারও। বাজারে ট্যাংরা ৪৫০—৭০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৮০০—১২০০ টাকা, বাইম মাছ প্রকার ভেদে ৭০০—১৪০০ টাকা কেজি, আকারভেদে রুই প্রতি  কেজি ৩০০—৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০— ৪৫০, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০—২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 


নাইল্লা শাক, কচু শাক, লালশাক, ডেঙ্গা শাক, পুঁইশাক বিক্রি করেন জয়নাল মিয়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে দামটা কম। তবে দুই তিনদিন পরপর দামটা উঠা—নামা করে। বর্তমানে লাল শাক প্রকারভেদে ১৫/২০ টাকা প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, নাইল্লা শাক ১৫/২০/২৫ টাকা, ডেঙ্গা শাক ২০/৩০ টাকা, কচুর লতি ৫০/৬০ টাকা এবং পুঁইশাক প্রতি কেজি ৪০ টাকা করে বিক্রি করছি। 
জয়নাল মিয়ার দোকানে এসে কচুর লতি, নাইল্লা শাক কিনেছেন হাসননগর এর বাসিন্দা আমেনা বেগম। তার হাতে ব্যাগ ভর্তি সবজি রয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ঘরে সদস্য বেশি। একদিন পরপর বাজারে এসে সবজি সহ অন্যান্য সদাই করতে হয়। আজকেও আলু, লাউ, করল্লা,ধনিয়া পাতা, কাঁচা মরিচ, পটল কিনেছি। টমেটো, সিম, বেগুনের দাম বেশি। এগুলো মাঝেমধ্যে কিনে খাই। সবজির দাম কিছুটা বাড়ছে।  বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এই বছর কাঁচা মরিচের দামটা কম আছে। বাড়লে আমরা তো না খেয়ে থাকতে পারব না, কম করে হলেও খেতে হবে।
শহরের কালীপুর গ্রামের বাসিন্দা দবির মিয়া নিয়মিতই সবজিসহ কাঁচা পণ্য কিনে থাকেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বেগুন, লাউ, টমেটো সহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে আলু, পেঁপের দাম কম রয়েছে। কাঁচা মরিচের দামটা গত সপ্তাহে দুইশত টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে অনেক কমেছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০—১৩০—১৬০ টাকায় কিনেছি। কাঁচা মরিচের দামটা মাঝে মাঝে কমে—বাড়ে।

 


সবজি বিক্রেতা রঞ্জন সরকার বলেন, বেগুন, টমেটো, লাউ, শিম সহ কুমড়ো দামটা বেড়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সবজির দাম কম আছে। 
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহির মিয়া বলেন, এক সপ্তাহ ধরে লেবুর দাম সহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় সবজির দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আছে। এই সিজনে দেশীয় প্রজাতির সবজি চাষ কম হয় এবং কয়দিনের টানা বৃষ্টিতে কিছু ক্ষেতের সবজি নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও সামনে দুর্গাপূজা। পূজাকে কেন্দ্র করে সবজির উপর চাপ বেশি পড়ে, এতে করে দামটা বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

 


ব্যবসায়ীদের কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট নেই। ব্যবসায়ী বেশি, অনেকেই ব্যবসায় লোকসান গুনছেন। তাছাড়া কাঁচা বাজারে সবজি সহ যে কাঁচা পণ্য রয়েছে, এগুলো দ্রুত বিক্রি না করলে পচে যায়।

 


খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে বেশি দামে সবজি বিক্রি করতে দেখা যায়, এমন অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, খুচরা বিক্রেতারা কেউ কেউ বাজার থেকে টাটকা সবজি বাচাই করে কিনে নিয়ে যায়, দামটাও বেশি থাকে। এতে করে একটু দামের পার্থক্য থাকে।

 


পূজাকে কেন্দ্র করে অহেতুক দাম বাড়িয়ে বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে মিটিং করে সকল ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আগামী মাসখানেকের মধ্যে নতুন সবজি বাজারে উঠলে দামটা পুনরায় কমবে বলে আশা করছেন তিনি।
সবজি বাজারে দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট আছে এমন অভিযোগ ভোক্তাদের।

 


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আমরা এ ব্যপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে অভিযান পরিচালনা করব। সিন্ডিকেট করে সবজিসহ কাঁচা পণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার