প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:২১
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন ও নিশ্চয়নের ফি নিয়েও কাজ করেননি তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সহকারী। এ কারণে তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার ৩৩ শিক্ষার্থীর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীসহ অভিবাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে এসএসসি ফল প্রকাশের পর কৃতকার্যদের মধ্যে অনেকেই একই বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার জন্য ভর্তির আবেদন করে। সে সময় কলেজ শাখার অফিস সহকারী কৌশিক পাল ৩৩ জন শিক্ষার্থীর ভর্তির আবেদনের ৩০০ টাকা ও নিশ্চায়নের জন্য ৪৫০ টাকা মোট জনপ্রতি ভর্তিও প্রথম ধাপের ৭৫০ টাকা করে নেন।
৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তি আবেদন শুরু হয় প্রথম ধাপের এবং ২৩ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট ২য় ধাপের আবেদনও শুরু হয়। ৩১ আগস্ট থেকে পহেলা সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপের আবেদন শুরু হয়ে শেষ হলেও কোনো শিক্ষার্থীর মোবাইলে ভর্তি আবেদন সংক্রান্ত ম্যাসেজ আসে নি। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে।
প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তৃতীয় ধাপের ভর্তি শুরু হয়, কিন্তু ভর্তির জন্য তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কোনো চিঠি না আসায় প্রধান শিক্ষক বোর্ডে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানেন, তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখায় ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য কোনো আবেদনই করা হয় নি। এ কারণে ২০২৫—২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শেণিতে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা পড়েছেন তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫ সালে এসএসসিতে কৃতকার্য হওয়া ৩৩ শিক্ষার্থীর।
অপরদিকে গত পনের দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আবেদন ও নিশ্চায়নের টাকাসহ কলেজ শাখার বিভিন্ন ফান্ড ও তাহিরপুর বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট থেকেও টাকা নিয়ে উধাও রয়েছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেট কৌশিক পাল।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ শাখায় ভর্তিচ্ছু তাসমিয়া আক্তার তৃণা, মোর্শেদা আক্তার আলো জানান, আমাদের রেজাল্ট প্রকাশ হওয়ার পর কৌশিক পাল সবার আবেদন করবে বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭৫০ টাকা করে আবেদন ফি ও নিশ্চায়ন বাবদ টাকা নেন। কিন্তু তিনি আমাদের কারো কোন আবেদন ও নিশ্চায়ন করেননি বরং আবেদন করেছেন কি না সেটাই সন্দেহ।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার ছাত্র অভিভাবক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, এ দায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এড়াতে পারেন না। উনার উচিত ছিলো বিষয়টি তদারকি করা।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কৌশিক পাল বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। ভর্তির আবেদন নিশ্চায়নের টাকাসহ কলেজ ফান্ডের অন্যান্য টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কৌশিক পালের পিতা করুনা পাল বলেন, সে তার সংসার নিয়ে পৃথকভাবে চলে, তার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেলে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির হয়ে মুচলেকা দিয়ে এসেছে কৌশিক পাল। মুচলেকাতে লিখেছে ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তির বিষয়ে যাবতীয় কাজ ও জরিমানা সে বহন করবে। নতুবা তাহার মাসিক বেতন ভাতা প্রতিমাসে কর্তন করা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের কর্তৃপক্ষকে ডেকে এনে বলে দেয়া হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন