নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহারে কী রহস্য

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:৩৮

সুনামগঞ্জ পৌরসভা

সুনামগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সড়ক ও অন্যান্য স্থানে নিম্নমানের আলোকসজ্জা বা স্ট্রিট লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কয়েক মাস পরেই লাইটের কার্যকারিতা নষ্ট হচ্ছে। কোন কোনটিতে মরিচা পড়ে লাইটের ধাতব হোল্ডার খুলে পড়েছে। সোমবার পৌরসভার নিচতলার বিদ্যুৎ শাখায় নিম্ন মানের স্ট্রিট লাইটের উপকরণ দেখা যায়। দায়িত্বশীলরা অবশ্য বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ঠিকাদার ভুলে এসব মালামাল সরবরাহ করেছিলেন, পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

 


সুরমা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। এখানে ৮৭ হাজার ৫৭০ জন মানুষের বসবাস। পৌর বাসিন্দাদের নানা সুযোগ—সুবিধা অপ্রতুলতার পাশাপাশি আলোকসজ্জা বা স্ট্রিট লাইটের স্বল্পতা রয়েছে। রাতে পৌরবাসিন্দাদের সুবিধার জন্য পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করেছে কতৃর্পক্ষ। তবে এসব সড়কবাতি স্থাপনের কিছুদিন পরেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোন কোনোটি মরিচা পড়ে ধাতব হোল্ডার, নেট ও প্লাস্টিকের স্বচ্চ পদার্থ নষ্ট হয়ে গেছে। কোনোটির লাইটই নষ্ট হয়ে গেছে। 

 


সোমবার সুনামগঞ্জ পৌরসভার নিচতলায় বিদ্যুৎ শাখায় স্ট্রিট লাইট লাগানোর প্রস্তুতি দেখা যায়। এসব লাইটের উপরের ধাতব অংশ সামান্য চাপ দিলেই বেঁকে যাচ্ছে। নিম্নমানের উপরের পাতলা টিনের ক্যাপ ও প্লাস্টিকের স্বচ্চ পদার্থ দেখা গেছে। 

 


অফিসের সামনে এসব সরঞ্জাম বিভিন্ন এলাকায় লাগানোর জন্য প্রস্তুত করে দিচ্ছিলেন লাইনম্যান মো. মইনউদ্দিন। এসব লাইট কতোদিন টেকসই করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এগুলো টিনের তৈরি, এখত (এক বছর) থাকতে পারে, এরপর বাতাস দিলে ভাইঙা পড়বো। 


লাইনম্যান মো. মইনউদ্দিনের সহজ—সরল বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হন অফিসের বিদ্যুৎ সুপারভাইজার মো. মহিবুর রহমান। অবশ্য তিনি বললেন, নতুন ঠিকাদার এসব মালামাল না বুঝে দিয়েছে, এগুলো আবার ফেরত দেওয়া হবে। 
তিনি বলেন, আগের লাইটের সরঞ্জাম উন্নতমানের ছিল, অফিসে সেম্পল রয়েছে। এখন যেগুলো পাঠিয়েছে সেগুলো খুবই হালকা। তিনি জানান, ছয়শ’ লাইটের লাগানো কাজ চলমান রয়েছে।

 


পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আলো সরবরাহের জন্য স্ট্রিট লাইটসহ অন্যান্য বিদ্যুতিক মালামাল জন্য ২০২৫—২৬ অর্থ বছরের জন্য ১৬ লাখ ১২ হাজার ৩৩৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এজন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রায় এন্ট্রারপ্রাইজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে ২০ ওয়াটের এলইডি ভাল্ব ২৪৭ টাকা ধরে ১৮শ’ পিস ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকায় দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও আরবি শেড  (১৮ গেজি) প্রদীপ সোয়াশ ৬১৮ টাকা ধরে ৬০০ পিসের দাম ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ টাকা। ৫০ ওয়াট এলইডি চক  (জেএসকে) ২২৫ টাকা ধরে ৬০০ পিসের দাম ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বলা হয়েছে। এছাড়াও রায় এন্ট্রারপ্রাইজকে আরও ৭১ রকমের সরঞ্জাম প্রদানের কথা বলা হয়েছে দরপত্রে।

 


পৌরশহরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা বিশ^নাথ কর্মকার বলেন, এসব লাইট লাগানোর পরেই কিছু খুলে পড়ে গেছে। অনেক লাইট জ¦লে না।  সড়কে বাতির নিচে অন্ধকারই থাকে। এতে চলাফেরা করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত দাস মিন্টু বলেন, পৌর শহরে লাগানো লাইটগুলো খুবই নিম্ন মানের।  পৌর শহরের সকল নাগরিকের কাছ থেকে হোল্ডিং টেক্সসহ অন্যান্য খরচ নেওয়া হয় আমাদের ভালো সেবা দেওয়ার জন্য। কেউ যাতে পঁয়সা নিয়ে খারাপ মালামাল দিতে না পারে, সেদিকে পৌর প্রশাসককে দৃষ্টি রাখতে হবে। তিনি চাইলে এসব অনিয়ম রোধ করতে পারবেন। 

 


মৌচাক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. আসাদউল্লাহ্ বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায়ই অন্ধকার থাকে। কারণ লাইটের উপরের ক্যাপ ও পাইপ খুবই পাতলা টিনের। এতে রোদ বৃষ্টিতে এগুলো টেকসই হয় না। মরিচা পড়ে খোলে পড়ে, লাইটও কয়েকদিন পরে জ¦লে না। এসব মালামালের কোয়ালিটি ভালো হলে টেকসই হতো, কয়েকদিন পরপর নতুন করে লাগাতে হতো না।

 


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রায় এন্ট্রারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী চন্দন রায় বলেন, মালামালগুলো ফেরত আনা হয়েছে। চাহিদাপত্র দেখি নি, আমি দোকানেও ছিলাম না। আমার ছেলেরা দিয়েছে। এখন নতুন মালামাল দেওয়া হবে।
পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম বললেন, পৌরসভায় আলোকসজ্জা বা স্ট্রিট লাইটের জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম ঠিকাদারের মাধ্যমে ক্রয় করি। আমরা চেষ্টা করি ভালো মানের সরঞ্জাম ক্রয় করার জন্য। এক্ষেত্রে কোনো মালামাল যদি মনে হয় যতেষ্ট মানসম্পন্ন বা টেকসই নয়, সেক্ষেত্রে সরবরাহকারীদের ফেরত দেয়া হয়। পরে মানসম্পন্ন বা টেকসই সরঞ্জাম দিয়েই কাজ করা হয়। 
তিনি বলেন, এসব মালামাল সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে, পরে পণ্যের চাহিদা দিলে ধাপে ধাপে পণ্য সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার