হাওরে হাঁসের হাসি

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:০৪

জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাঁস পালন। নানা প্রজাতির হাঁস পালন করে ভাগ্য বদল করেছে অনেক খামারিরা। বিশাল হাওরে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বা সুবিধা মতো স্থানে হাঁস পালনে ঝুঁকে পড়েছেন হাওরের মানুষ। মাঠে—ঘাটে দেখা যায় হাঁসের ঝাঁক। হাওরে মাঠে—ঘাটে, খাল, বিল, ডুবা বা ফসলের ক্ষেতে হাঁস চরানো হয়। সেখাই দলবেঁধে ছুটে চলে হাঁস। খাবার সংগ্রহ করে আবার দিন শেষে দলবেঁধে ফিরে যায় খামারে। খামারিরা হাঁস পালন করে আয় করে তাদের পরিবারসহ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। অল্প পরিশ্রমে স্বল্প পঁুজিতে লাভবান হওয়ায় হাঁস পালনে ঝুঁকছেন অনেকে।

 


হাওরের খামারি জয়নাল আবেদীন ও সামছুল হক জানান, হাওরে হাঁসের খাবার আছে ও হাঁস চরাতে কোন ঝামেলা নেই। শুধু একটি ছোট নৌকায় করে হাঁসের পালের সাথে একজন লোক থাকলে চলে। হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় দারিদ্রতা দূর করে অনেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। উপজেলার পাকনা, হালি ও মিনি পাকনা, বাশকার হাওরে হাঁস পালনে ঝুঁকছেন অনেকে। অধিকাংশ বাড়িতেই রয়েছে হাঁসের খামার। হাঁস থেকে উৎপাদিত ডিম বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়।

 


খামারি আব্দুস সামাদ জানান, হাঁস পালনে যেমন সহজ তেমনি রয়েছে ঝুঁকি। একবার মড়ক দেখা দিলে শত শত হাঁস মারা যায়। তবে যথাযথ পরিচর্যা, পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন খামার এবং হাঁসের প্রতি বাড়তি নজরদারি রাখলে রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হাঁস পালনে হাতে গোনা কয়েকজনের লোকসান হলেও বেশির ভাগ খামারি লাভবান হচ্ছেন। এতে করে অনেকে হাঁস পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। সারা বছরেই হাঁস পালন করা যায়। তবে শীতের সময় হাঁস এবং হাঁসের ডিমের চাহিদা বেশি থাকায় হাট—বাজারে হাঁস এবং ডিমের জমজমাট কেনাবেচা হয়ে থাকে।

 


তারা আরও জানান, বছরের ৬ মাস হাঁস বিল ও ডুবায় শামুক—ঝিনুক সহ প্রাকৃতিক খাবার খায়। বর্ষায় হাঁসের খাবারের জন্য অন্য কোন বাড়তি খরচ লাগে না। হাওরে খাবারে সংস্থান থাকায় খাবারের প্রায় অর্ধেক খরচ কমে যায়। হেমন্তে হাওরে বিলের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করে বিলে হাঁসের খাবার খাওয়াতে হয়।

 


কাশিপুর গ্রামের হাঁস খামারি মহারাজ মিয়া বলেন, আমি ঋণের জ্বালায় ছেলে সন্তান নিয়ে ঢাকা কামরাঙ্গীরচড় চলে গিয়ে ছিলাম। ঢাকায় ২ বছর চাকুরি করে এক বন্ধুর পরামর্শে এলাকায় এসে হাঁসের খামার শুরু করি। প্রথম ২ শত হাঁস দিয়ে শুরু করলেও বর্তমানে আমার খামারে দেড় হাজার হাঁস রয়েছে। সব ঋণও শোধ করেছি। হাঁস পালন করে এখন আমি স্বাবলম্বী। বর্তমানে আমার খামারে হাঁস ও অন্যান্য সামগ্রী সহ পঁুজি আছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার। হাসের খামার দিয়ে ভাগ্য বদল হয়েছে আমার। আগামীতে আরও ৫ শত হাঁস কিনবো। 
উপজেলা ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডাক্তার সামছুল হক বলেন, জামালগঞ্জ উপজেলা হাওর বেষ্টিত হওয়ায় হাঁস পালনের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন একটি লাভজনক ফার্মিং তৈরি হয়েছে। বর্ষায় হাঁস বেশির ভাগ খাদ্য হাওর থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এজন্য হাঁস পালন করে শত শত বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। নারীরাও হাঁস পালন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। এই উপজেলায় ৪০ টির অধিক রেজিষ্ট্রেশনকৃত খামার রয়েছে। এছাড়াও অন্য খামারসহ ৪ থেকে ৫ লক্ষ হাঁস পালন করা হচ্ছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার