প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:০৭
বিক্রি হচ্ছে ধানের অর্ধের দামে
জামালগঞ্জ উপজেলায় বেড়েছে গবাদী পশুর খাদ্যের দাম। এতে বিপাকে পড়েছে পশু খামারীরা। সম্প্রতি খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে ছোট—বড় খামারে। যার ফলে মাংস ও দুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন অনেকে।
জানা যায়, ধান মাড়াই করার পর পাওয়া খড় এখন ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। যা ধানের দামের চেয়ে ৫০০ টাকা মাত্র কম। এখন ১ মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। উপজেলার রামপুর, আলীপুর, ফাজিলপুর গ্রামে আগে যেখানে ৩০০ টাকা মণ খড় বিক্রি হতো, এখন সেই খড় ৫০০ টাকা মণ বিক্রয় হচ্ছে।
আলীপুর গ্রামের কৃষক জাহের আলী বলেন, আমি ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। জমিতে প্রায় ৮০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। সেই ধান কাটার পর ৮০০ টাকা মণ দরে ধান জমি থেকে বিক্রি করেছি। জমি থেকে যে খড় পাওয়া গেছে তা এখন ৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩০ মন খড় বিক্রয় করেছি, আরও দশ মন বিক্রয় করতে পারবো। গত শুক্রবার খামারীরা বাড়িতে এসে খড়ের দাম দিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, গত বছর ৩৫ হাজার টাকার খড় বিক্রয় করেছিলাম।
ফাজিলপুর গ্রামের কৃষক কালা মিয়া জানান, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ধান বিক্রয় করেছেন ৪৫ হাজার টাকার আর খড় বিক্রয় করেছেন ২০ হাজার টাকা।
জামালগঞ্জ উপজেলা খামারী মো. নজির হোসেন জানান, প্রতি বছর বর্ষার আগেই খড় সংগ্রহ করে রাখেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়। তবে চলতি বছর গত বছরের তুলনায় খড়ের দাম বাড়ায় প্রায় দেড় লাখ টাকায় গত বছরের সমপরিমাণ খড় ক্রয় করেছেন।
তিনি জানান, খড়ের এত দাম আগে কখনো ছিল না। বর্তমানে কৃষকরা খড় বিক্রি করে খুশী হলেও খামারীরা হতাশ। গো—খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারীরা গরু বিক্রি করতে চেয়েও পারছেন না। গরুর দামও কমে গেছে। খামারে গিয়ে দেখা যায় অনেক গরু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
খামারী আব্দুস শহীদ বলেন, প্রতিটি গরুকে প্রতিদিন দেড়শ টাকার খড় খাওয়াতে হয়। এতো খরচ বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় গরু বিক্রয় করতে চেয়েছি। কিন্তু দাম কম হওয়ায় বিক্রি করা যাচ্ছে না। হাওরে কাঁচা ঘাস না থাকায় খড়ের দাম বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, গরুর খাবারের তালিকা থেকে খড় বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। খড়ের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অনেক খামারী দানাদার খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এতে খামারের খরচ আরও বেড়ে গেছে।
খামারী আব্দুল কাদির বলেন, আগে গরুকে জমিতে ঘাস খাওয়ানো যেত, এখন পতিত জমি আবাদ হওয়ায় ক্রয় করা খড়ের উপর নির্ভর হতে হচ্ছে।
জামালগঞ্জ উপজেলা ভেটেরিনীরি সার্জন ডা. সামসুল হক বলেন, এই উপজেলায় গরুর রেজিস্ট্রেশনকৃত খামার রয়েছে ৫০টি। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া খামার রয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০টি। সারা উপজেলায় প্রায় ১ লাখের বেশী গবাদীপশু রয়েছে।
তিনি বলেন, এই উপজেলা হাওর বেষ্টিত হওয়ায় বছরের বেশির ভাগ সময় মাঠ—ঘাট পানিতে তলিয়ে থাকে। যার কারণে গবাদীপশু বাইরে বিচরণ করে খাবার খেতে পারে না। এজন্য বর্ষাকালে খড় এবং দানাদার খাবারের উপর খামারীদের নির্ভর করতে হয়। এতে কাক্সিক্ষত দুধ উৎপাদন এবং মাংস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারীরা।
তিনি আরও বলেন, আমরা খামারীদের উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন করে (হাইলেস ওহে) বর্ষায় গবাদীপশুকে খাওয়ানোর জন্য বলি। যে পরিমাণ গবাদীপশু আছে সে পরিমাণ খড় না থাকার গো—খাদ্যের দামটা তুলনামূলক বেড়ে গেছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন