চারা সংকটে আমন আবাদ ব্যাহত, চিন্তিত কৃষক

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২৩:৩০

আর মাত্র কয়েকদিন আমন আবাদের সময় শেষ হয়ে যাবে। তবে জামালগঞ্জে চারা সংকটের কারণে অনেক জমিতে চারা রোপণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কিছু কিছু জায়গায় চারা পেলেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও খরার কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে চারা সংকট দেখা দিয়েছে। এতে আমন উৎপাদন কম হবে বলে আশংকা করছে কৃষকেরা। 
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে ৪৮৯০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে কৃষি প্রণোদনার আওতায় ৭৫০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ও ২০ কেজি বিভিন্ন রকম সার দেওয়া হয়েছে।

 


তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বীজ বুনেও আশানুরূপ চারা পাওয়া যায় নি। যার কারণে অন্যান্য উপজেলা থেকে চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। 
সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ভরা বৃষ্টিতেও তারা আমন রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন। 
এলাকার বিভিন্ন কৃষকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সাধারণত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১ কেজি ধানের চারা ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এবার ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ধানের চারা কিনতে হচ্ছে। এর উপর নৌকা বা গাড়ি ভাড়াতো আছেই।

 


উপজেলার লালপুর গ্রামের কৃষক হাসেম মিয়া জানান, তিনি ৪ বিঘা জমি আমন চাষের জন্য তৈরি করেছেন। প্রথমে ১০ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু অতি বৃষ্টিতে তা নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার ৫ কেজি ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন। গত সোমবার আরো ৫কেজি ধানের চারা ধর্মপাশা থেকে নৌকা দিয়ে আনতে হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। এতোকিছুর পরও পুরো জমিতে আমন লাগাতে পারবেন কিনা শঙ্কায় রয়েছেন।

 


কৃষক সবুর মিয়া বলেন, তিনি ২০ কেজি ধানের বীজ বুনে ছিলেন। অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আর বীজ বপন করেন নি। তাই এখন বেশি দামে চারা ক্রয় করে জমিতে রোপন করছেন। 
তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আমার মতো অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। যারা উঁচু জায়গায় বীজতলা করেছে তাদের চারাই ভাল রয়েছে। 
কৃষক ইয়াছিন মিয়া বলেন, ৩ বিঘা জমি আবাদের জন্য ২ শতাংশ জমিতে বীজতলা করেছিলাম। বীজতলার প্রায় ৫০ ভাগ চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চারা সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখি ১ কেজি বীজের চারা ৯০০ টাকা। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, জামালগঞ্জ হাওর বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় উঁচু জায়গার পরিমাণ অপ্রতুল। যার কারণে কৃষকরা নদীর পাড় অথবা নিচু স্থানে বীজতলা করে থাকেন। কিছু কিছু বীজতলা অতি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একারণে অনেকেই পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন। আমাদের সাথে কোন কৃষক চারা সংকটের জন্য যোগাযোগ করলে— সুনামগঞ্জ বীনা উপকেন্দ্রে আপদকালীন বীজতলা থেকে বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করার সুযোগ রয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার