প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:৩০
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ
অবশেষে তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৩৩ শিক্ষার্থীর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখের জরুরী বিজ্ঞপ্তি মারফত জানা যায়, ২০২৫—২০২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে সর্বশেষ চতুর্থ পর্যায় অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন, ফলপ্রকাশ, নিশ্চায়ন ও কলেজ ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং রবিবার থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৩৩ শিক্ষার্থীর একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন ও নিশ্চায়নের ফি নিয়ে উধাও হয় তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সহকারী কাম কপিউটার অপারেটর কৌশিক পাল। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ অভিবাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে এসএসসি ফল প্রকাশের পর কৃতকার্যদের মধ্যে অনেকেই একই কলেজ শাখার জন্য ভর্তি আবেদন করে। সে সময় কলেজ শাখার অফিস সহকারী কৌশিক পাল ৩৩ জন শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদনের ৩শ’ টাকা ও নিশ্চায়নের জন্য সাড়ে ৪শ’ টাকা মোট জনপ্রতি ভর্তির প্রথম ধাপের সাড়ে ৭শ’ টাকা করে নেন।
৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ভর্তি আবেদন শুরু হয় প্রথম ধাপের এবং ২৩ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট ২য় ধাপের আবেদনও শুরু হয়। ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপের আবেদন শুরু হয়ে শেষ হলেও কোনো শিক্ষার্থীর মোবাইলে ভর্তি আবেদন সংক্রান্ত ম্যাসেজ আসেনি। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষককে অবহিত করে। প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তৃতীয় ধাপের ভর্তি শুরু হয় কিন্তু ভর্তি জন্য তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে কোনো চিঠি না আসায় প্রধান শিক্ষক বোর্ডে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানেন তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখায় ৩৩ শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য কোনো আবেদনই করা হয়নি। ফলে ২০২৫—২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শেণিতে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা পড়েন তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৫ সালে এসএসসিতে কৃতকার্য হওয়া ৩৩ শিক্ষার্থী।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কৌশিক পাল বলেন, এটা আমার ভুল হয়েছে। ভর্তি আবেদন নিশ্চায়নের টাকাসহ কলেজ ফান্ডের অন্যান্য টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দেননি।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরও অফিস সহকারী কৌশিক পাল অনেক শিক্ষাথীর আবেদন করে দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় অনেকেই এ বছর তার মাধ্যমে আবেদন করেছে। স¤প্রতি কলেজে কোন ভর্তি সংক্রান্ত চিঠি না আসায় আমি সিলেট বোর্ডে গিয়ে খোঁজ নেই। সেখানে জানতে পারি ৩৩ শিক্ষার্থী নামে কোন আবেদনই করা হয়নি। তবে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ভর্তির সময়বৃদ্ধি করায় এখন আর কোন সমস্যা রইলো না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন