প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০০:১৪
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাধানগর গ্রাম এবং দক্ষিণ লালপুরের হাজারো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাত্র আড়াই কিলোমিটার সড়কের দুর্দশার কারণে এলাকার জনসাধারণ সহ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এখানে সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে যায়, স্কুলগামী এবং কলেজ, মাদ্রাসার শিশুরা কষ্ট পায়। মালামাল পরিবহন বা জরুরি কাজে ব্যাঘাত ঘটে। প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে বাড়তি ব্যয় এবং ভোগান্তি পোহাতে হয় জনগণকে।
দীর্ঘ দুই দশক ধরে বিভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় দেশের বহু গ্রামের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু রাধানগর গ্রামের এই আড়াই কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়নি এবং এটি চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এই সড়কপথে ভোগান্তির কারণ হচ্ছে অসম্পূর্ণ উন্নয়ন।
সড়কের আংশিক কাজ এলজিইডির হিলিপ প্রকল্পের অর্থায়নে পাকাকরণ হলেও নামমাত্র হয়েছে। বাকি অংশে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তা সম্পূর্ণ কাদায় ডুবে যায়, যা যাতায়াতকে আরও কঠিন করে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই সড়কপথে আসা—যাওয়া সহজ হয় এবং দুর্ভোগের নিরসন হয়।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী সহ জনসাধারণের সাথে কথা বলে এমন চিত্র উঠে আসে।
এ বিষয়ে রাধানগর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমাদের একমাত্র চলাচলের সড়কটি বর্ষায় পানিতে ডুবে যায়। তখন নৌকা ছাড়া যাতায়াতের আর কোনো সুযোগ থাকে না। হেমন্তে পায়ে হেঁটে শহরের মেইন সড়কে উঠে এরপর অটোরিকশা বা সিএনজি দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে হয়। বৃষ্টি হলে রাস্তায় কাদা থাকে। আমাদের রাধানগর গ্রামের জনসাধারণ সহ শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হই। মালামাল আনা নেওয়ার জন্য সমস্যায় পড়তে হয়।
আমাদের গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে সুনামগঞ্জ—বিশ্বম্ভরপুর—তাহিরপুর উপজেলা সড়কের মাথায় রাধানগর মেইন সড়ক পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার হবে। এই এক কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ, কাদা, গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব কিছু উপেক্ষা করে আমাদেরকে বছরের পর বছর ধরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কটি সংস্কার, মেরামত এবং পাকা করা হলে আমাদের খুবই উপকার হবে।
সিলেট কৃষি প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থী, রাধানগর গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলী বলেন, আমাদের সড়কপথের ভোগান্তির শেষ নেই। যুগ যুগ ধরে আমরা এই সড়কপথে আসা—যাওয়া করি। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই সড়কপথেই জেলা শহর সুনামগঞ্জ সহ সিলেট—ঢাকায় যাতায়াত করেছেন। কিন্তু যুগ পাল্টাচ্ছে, আমাদের সড়কপথের কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আমরা রাধানগর গ্রামের জনসাধারণ জেলা শহরের কাছাকাছি বসবাস করছি। মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে জেলা শহর। জেলা শহর থেকে যে সড়কটি বিশ্বম্ভরপুর—তাহিরপুর উপজেলায় এই সড়কের মেইন পয়েন্ট থেকে আমাদের রাধানগর গ্রামের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। এই কাঁচা রাস্তা দিয়ে আমাদেরকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
একই গ্রামের মহিউল্লাহ। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, রাধানগর গ্রামেএকাধিক পাড়া রয়েছে। উত্তরপাড়া এবং দক্ষিণ পাড়া। এছাড়াও লালপুর দক্ষিণ হাঁটি পর্যন্ত আমাদের সড়কটি গিয়ে মিশেছে। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাছেই আমাদের এই রাধানগর গ্রামের অবস্থান। অথচ, আমরা সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, এলাকার লোকজন আমার কাছে আবেদন করলে সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা নেব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন