প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:১২
হাওর— নদী পাহারের মিশেল সম্ভবনাময় পর্যটন এলাকা সুনামগঞ্জে এই বর্ষা মৌসুমে পর্যটক কম এসেছেন। পর্যটকদের হাওরের প্রতি টান থাকলেও ঢাকা সিলেট মহাসড়কে যোগাযোগে ভোগান্তির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে দায়িত্বশীলরা বলছেন, মোহনগঞ্জ হয়ে অথবা রেলপথে সিলেট হয়ে আসলে ভোগান্তি কমবে পর্যটকদের। এছাড়াও পর্যটন এলাকায় যোগাযোগে ভোগান্তি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হবার কারণেও পর্যটকদের অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে সুনামগঞ্জ আসতে পাড়ি দিতে হয় প্রায় তিনশ’ চার কিলোমিটার সড়ক পথ। তবে বিকল্প পথ ঢাকা থেকে রানীগঞ্জ হয়ে আসলে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার কমে দুইশ’ ৬৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেই সুনামগঞ্জ পৌছা যায়। এই সড়কে ৬ লেনের কাজ হওয়ায় ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ আসতে আবার ফেরার পথে ঘন্টার পর ঘন্টা জটে পড়তে হয় তাদের। এতে ভোগান্তির শিকার হয়ে পর্যটক কম এসেছেন এই মৌসুমে।
এদিকে গত কয়েক বছরে তাহিরপুরের সাদা পাথর নামে পরিচিত পাওয়া চানপুর ছড়া থেকেও পাথর তুলে নেওয়ায় ভাটা পড়েছে ওই এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদা পাথর দেখে আসলেও বাস্তবে পাথরের উপস্থিতি না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে পর্যটকদের।
এছাড়াও বড়গোপ টিলার সড়কসহ আশেপাশের এলাকার সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য পর্যটক কমছেন। যারা একবার এসেছেন তারা দ্বিতীয়বার আসার উৎসাহ পাচ্ছেন না। পরিচিত কেউ আসতে চাইলেও তাদের নিরুৎসাহিত করছেন ঘুরে যাওয়া পর্যটকেরা।
সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে এসেছেন আলীরাজ। হাওরের সৌন্দর্য্য দেখার পাশাপাশি সাদাপাথর হিসেবে পরিচিত চানপুর ছড়া দেখার পরিকল্পনা তার। তবে বাস্তবে ছড়ায় সাদা পাথরের অস্তিত্ব না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।
আলীরাজ বললেন, শ্রীমঙ্গল থেকে সাদা পাথর দেখার জন্য এসেছি। এখানে এসে দেখি কোনো পাথর নেই। খুবই দুঃখজনক বিষয়।
আলীরাজের মতো চানপুর ছড়ার সাদা পাথর দেখতে এসে আরও অনেক পর্যটকের হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে।
তাহিরপুরের বাদাঘাটের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন বলেন, পাশ^র্বর্তী উপজেলা বিশ^ম্ভরপুরে খোঁজা লাগে কোন সড়ক পাকা হয়নি, আর আমাদের খোঁজা লাগে কোথায় পাকা সড়ক রয়েছে। সম্ভবনাময় পর্যটন এলাকা হলেও পুরো উপজেলার সড়কের বেহাল অবস্থা। এখনও উপজেলা সদর থেকে সীমান্তের সড়কপথ ভালো নয়। কোথাও ভাঙাচূরা, কোথাও আবার পাকা সড়কই নেই। সড়ক পথে ভোগান্তির কারণে পর্যটকদের অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাইদ বলেন, সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকাগুলোর পৃষ্টপোষকতা করা গেলে পর্যটক আসবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে চাঙা হবে এই এলাকা। এজন্য প্রয়োজন ভালো সড়ক পথ। এখনও কেউ সরাসরি গাড়ি নিয়ে বড়গোপ টিলা, শিমুলবাগান, লাকমা ছড়া, চানপুর ছড়া, শহীদ সিরাজ লেকে যেতে পারে না। সরকার হাওরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করবে আশাকরি।
সুনামগঞ্জ হাউসবোট অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি মো. আরাফাত হোসেন বলেন, এবার পর্যটন মৌসুমে অন্যবারের চেয়ে কম মানুষ এসেছেন। এর অন্যতম কারণ হলো সড়ক পথে ভোগান্তি। ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ৬ লেনের কাজ চলছে। এজন্য অনেক সময় দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়। তবে আমরা পর্যটকদের বলছি, রেলপথ ব্যবহার করে সিলেট পর্যন্ত এসে পরে অন্যবাহন ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ আসা যায়। এভাবে আসলে পর্যটকদের ভোগান্তি কমবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, পর্যটন শিল্প এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। এবছর ইক্যু ট্যুরিজম করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। তিনি বলেন, সীমান্ত সড়কের কাজ চলছে। এটি হয়ে গেলে পর্যটনের জন্য ভালো একটি কাজ হবে। ঢাকা সিলেট মহাসড়কে ৬ লেনের কাজ হওয়ায় মৌসুমে পর্যটক কম এসেছে। শেষ হলে সামনের বছরে এই সড়ক ব্যবহার করে আরও বেশি মানুষ আসবেন। তবে এখন বিকল্প পথ ধরেও পর্যটক আসছেন। অনেকে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে কম সময়ে আসতে পারছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, লাকমা ছড়ার পানি স্থানীয়রা খাবারের পানি হিসেবে ব্যবহার করেন। ওখানে পর্যটকেরা গোসল করেন। তাদের বুঝতে হবে গোসলের চেয়ে যারা পান করেন তাদের গুরুত্ব বেশি। স্থানীয়দেরও বুঝতে হবে পর্যটন এলাকা সুরক্ষিত থাকলে তাদের আয় হয়। তারা যেনো এমন কোনো কার্যক্রম না করেন, যাতে পর্যটন এলাকার আকর্ষণ নষ্ট হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম চলবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন