প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৯
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও জমজমাট সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিপনি বিতানসহ বিভিন্ন মার্কেট।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের দোজা মার্কেট, নেজা প্লাজা, লন্ডন প্লাজা, মধ্যবাজার এলাকার বিভিন্ন বিপণিবিতান এবং হকার্স সমবায় মার্কেটে জোরেসোরে চলছে পূজার কেনাকাটা। ক্রেতারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরেই পূজার কেনাকাটা চলছে।
পূজা উদযাপন উপলক্ষে শঙ্খ, শাঁখা, সিঁদুরসহ পূজার সামগ্রী কেনাকাটায় ধুম পড়েছে। শহরের মধ্যবাজারের অলিগলিতে এখন ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। ক্রেতাদের মধ্যে তরুণ—তরুণীর সংখ্যাই বেশি। তারা বলছেন, বেশকিছু দিন ধরেই পূজার কেনাকাটা শুরু হয়েছে। শুক্রবার এবং শনিবার এই দুই দিন ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই কেনাকাটা সেরে ফেলছেন। অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন, আগের চাইতে এ সপ্তাহে বিক্রিও বেশ বেড়েছে।
কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, জিন্স প্যান্ট ৬০০ টাকা থেকে ১০০০—১২০০ টাকা, ড্রপ সোল্ডার টি—শার্ট ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, টি—শার্ট ২০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে শাড়ি বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। দেশি, ইন্ডিয়ান, টাঙ্গাইলের জামদানী, তাঁতের সুতি শাড়ির কদরই বেশী। পাশাপাশি কসমেটিকস, জুতা ও পূজার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে দেদারসে।
শহরের মধ্যবাজার এলাকায় বিপনি বিতানে দেখা হয় কল্পনা রাণীর সাথে। পুজোর কাপড় কিনে ফিরছিলেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধ্যুতি, শাড়ি, ছোটদের টি—শার্টসহ থ্রি পিস কিনেছি। এই বছর দামটা তেমন বাড়েনি। মোটামুটি আমাদের সাধ্যের মধ্যে আছে। আমি আমার পরিচিত একটি দোকানে কাপড় কিনেছি। ন্যায্য মূল্যেই কিনতে পারছি।
কল্যাণব্রত আচার্য একজন শিক্ষক। স্বপরিবারে এসেছেন মার্কেটে। তিনি ছোট্ট ছেলে—মেয়েদের জন্য টি—শার্ট, জামা এবং স্ত্রীর জন্য শাড়িসহ বিভিন্ন কসমেটিক জাতীয় সামগ্রী কিনেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্ত্রী সন্তান সহ মার্কেটে এসেছি। ছোট ছেলের জন্য টি শার্ট, মেয়ের জন্য থ্রি পিস এবং স্ত্রীর জন্য শাড়ি কিনেছি। এছাড়াও কসমেটিকস সামগ্রী এবং জুয়েলারি সামগ্রী কিনেছি। তিনি বলেন, দাম বাড়েনি। গত বছরের তুলনায় এ বছরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আছে।
মধ্যবাজার এলাকায় এহসান মার্কেটে নিউ কাকলি’র বিক্রেতা রতন দাস বলেন, কাপড়ের দাম নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে, দাম বাড়েনি। তবে এবার ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। বেচাকেনা এ বছর কম হচ্ছে।
গ্রীণ টাচ’র বিক্রেতা আব্দুল্লাহ তামিম বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। কিন্তু, পণ্য সামগ্রি বিক্রি হচ্ছে কম। আমাদের দোকানে কসমেটিক জাতীয় পণ্য আছে। কম দামের মধ্যে আলতা, নেইল পলিস, টিপসহ বিভিন্ন ক্রিম বিক্রি হচ্ছে।
সূচিত্রা ফ্যাসনের বিক্রেতা রিংকু দাস বলেন, এ বছর পূজার বাজারে কেনাকাটা ভালোই হয়েছে। আমাদের দোকানে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে একেবারে উচ্চবিত্ত পরিবারের সকল প্রকার ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি পিস, পোওর পিস সহ বিভিন্ন ধরনের টি শার্ট, প্যান্ট, জামদানী শাড়ি, ইন্ডিয়ান কালেকশন, টাঙ্গাইল শাড়ি, কাতান, সিল্ক, আড়ং এসব পর্যাপ্ত রয়েছে এবং বিক্রিও হয়েছে। বিশেষ করে সুতি কাপড়ের পোষাক বেশি বিক্রি হয়েছে। এই পোষাকগুলো পূজার চয়েসফুল পোষাক, এগুলো আরামদায়কও।
ছোট বাচ্চাদের ড্রেস ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়াও বড়দের জামা ৩০০০—৪৫০০ টাকা দামের উন্নত জর্জেট ড্রেস বিক্রি করেছি।
শাড়ির মধ্যে ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০—৪০০০ টাকা দামের রয়েছে। কোয়ালিটি অনুসারে দামটা আছে। এ বছর তুলনামূলক দামটা গত বছরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে। দাম বাড়েনি।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে আমরা প্রতিনিয়তই বাজারে দোকানগুলোতে মনিটরিং করছি।
বিশেষ করে কাপড়ের দোকান, কসমেটিক জাতীয় দোকানগুলোতে মনিটরিং করা হচ্ছে। যদি কেউ দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে চেষ্টা করে, তাহলে আমাদের জানালে ব্যবস্থা নেব।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন