লাল শাপলার মুগ্ধতা 

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:০৯

তাহিরপুরের বিকি বিল

দিগন্ত বিস্তৃত মেঘালয় পাহাড়, শরৎ আকাশে হাওরের স্বচ্ছ জলে পাহাড়ের ছায়া, এরই মাঝে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে বিকি বিলে ফুটতে শুরু করেছ অগণিত লাল শাপলা। সকালের ¯িœগ্ধ আলোয় যেনো বিলে লাল রঙের মায়া ছড়াচ্ছে প্রস্ফূটিত শাপলা ফুলগুলো। এমন একটি শাপলা বিলে যে কারোর চোখ আটকে যাবে ক্ষণিকের জন্য। তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের কাশতাল গ্রামের সামনে গেলেই চোখে পড়বে বিকি বিল।
বিলের খুব কাছেই ভারতের মেঘালয় পাহাড়। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে বিলের অবস্থান হওয়ায় বিলটি প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে আরও বেশী মোহনীয় হয়ে উঠেছে। বিলটির আয়তন প্রায় ২০ একর। বর্ষায় পানিতে নিমজ্জিত থাকে, তখন তেমন ফুল ফুটতে দেখা না গেলেও আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসজুড়ে প্রচুর ফুল ফুটে। শীতকালে এ বিকি বিলের হাওরে স্থানীয় কৃষক সবজি চাষ সহ বোর ধান আবাদ করেন। প্রকৃতিগতভাবে গড়ে ওঠা এ শাপলার বিকি বিল হাওরটি পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের প্রাক্তন জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ। সে সময় বিভিন্ন মাধ্যমে এ শাপলা বিলের প্রচার পায় ব্যাপক হারে। তখন থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমনপ্রেমী মানুষজন লাল শাপলা দেখতে হাওরে আসেন। শাপলা ফুল মূলত সন্ধ্যা থেকেই ফুটতে শুরু করে। সকালে সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপাড়ি গুলো নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
টাঙ্গুয়া হাওর ঘুরতে আসা ঢাকার পর্যটক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাওরে ঘুরতে এসে শুনলাম ট্যাকেরঘাটের পাশেই একটি শাপলা বিল আছে- দেখতে গিয়েছিলাম, এটি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
তাহিরপুরের ভ্রমণ প্রিয় দর্শনার্থী সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে শাপলা ফুল ফোটার সময় আমি বিকি বিল ঘুরতে যাই। একসাথে এত শাপলা ফুল আর কোথাও আছে আমার জানা নেই। তাই প্রি বছর ফুলের মৌসুমটি মিস করতে চাই না।
বিলের পাশের কাশতাল গ্রামের কৃষক আব্দুল হেকিম জানান, ভাদ্র থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত হাওরে বেশী ফুল ফুটে। তার পর ধীরে ধীরে হাওরের পানি শুকিয়ে গেলে স্থানীয় কৃষকগণ চাষাবাদ করে জমিতে বোর ধান রোপণ করেন। এ সময়ে মধ্যে লোকজন আসলে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেত পারবে বলেও তিনি জানান।
২০১৯ সালের ১২ই অক্টোবর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ এ বিলটিকে পর্যটন স্পট হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয় নি। এতে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সড়কসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে মনে করেছেন স্থানীয়রা।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, লাল শাপলার বিকিবিল হাওর, নদী, খাল, জনপদের পাশে নতুন সম্ভাবনাময় স্বপ্নের ডানা মেলছে। মনোমুগ্ধকর এ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনেই পর্যটকদের আগমন ঘটছে লাল শাপলার বিলে। আগত পর্যটকদের সুবিধার্থে এখন প্রয়োজন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি লাল শাপলার বিকিবিল। পর্যটন সম্ভাবনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে ওখানে। সেই সাথে এলাকাটি সৌন্দর্যে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিকিবিল হাওর অপরদিকে মেঘালয় পাহাড়।
কিভাবে যাবেন
বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে তাহিরপুর উপজেলা সদরে এসে এরপর মোটরসাইকেল যোগে তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে হয়ে বিকি বিল। বাদাঘাট বাজার থেকে কাশতাল গ্রামের দূরত্ব এক কিলোমিটার। সড়কের বাঁ পাশে চোখে পড়বে বিকি বিল। উত্তর দিকে তাকালে মেঘালয় পাহাড়। সিএনজি বা অন্য কোন যানবাহন চলাচল করে না সরাসরি। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে সিএনজি, লেগুনা, লাইটেস দিয়ে লাউড়েরগড় অথবা মিয়ারচর খেয়াঘাট পার হয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে বিকি বিল যাওয়া যায়।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার