প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৩ ০৮:১০
‘মুজিব’ একটি জাতির রূপকার
সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ চলচিত্র দেখতে প্রতি শো-তেই মানুষের উপচে পড়া ভিড় হচ্ছে। শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তন প্রদর্শনী শুরুর আগেই ভিড়ে ঠাসা থাকছে। নির্ধারিত আসনে সংকুলান না হওয়ায় বাড়তি চেয়ার দিয়েছেন কতৃর্পক্ষ, তাতেও হচ্ছে না। ফ্লোরে বসে, দাঁড়িয়ে থেকে দেখছেন দর্শকরা। এক সপ্তাহের মধ্যে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর ৬ দিন পার হলেও দর্শক জনপ্রিয়তার কারণে আরও ৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেখানো হবে বলে বুধবার বিকালে জানানো হয়েছে।
গেল ১৩ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে চলচ্চিত্রটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিদিন ৩ বার করে দেখানো হয়েছে। বেলা ১১ টা, দুপুর ৩ টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় চলচিত্র প্রদর্শনী হয়ে থাকে। ১৯ তারিখ পর্যন্ত দেখানোর ঘোষণা থাকলেও দর্শকপ্রিয়তার কারণে আরও ৫ দিন বাড়িয়ে ২৪ তারিখ মঙ্গলবার পর্যন্ত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ১২টা, চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর ষষ্ঠ দিনের প্রথম শো চলছিল। মিলনায়তন ভিড়ে ঠাসা থাকায় অনেকেই পেছনের দরজার বাইরেও দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভিড়ের জন্য দরজা লাগাতেও পারেন নি শিল্পকলার দায়িত্বশীলরা। দ্বিতল মিলনায়তনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নির্ধারিত আসন ছাড়াও ভেতরের চলাচলের পথে কার্পেটের উপরও বসেছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী।
জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল বললেন, দর্শনার্থীদের চাপ এতোটাই যে, আলাদা একশ চেয়ার দিয়েও হচ্ছে না। এর বেশি চেয়ার বসানোরও সুয়োগ নেই।
চলচ্চিত্রটি প্রদর্শন সময়ে মিলনায়তনজুড়ে ছিলো পিনপতন নিরবতা। প্রথম শো’তে কেবল শিক্ষার্থীরা দেখার কথা থাকলেও, অনেক বয়স্করাও এসে দায়িত্বশীলদের অনুরোধ করছিলেন ভেতরে প্রবেশ করা যায় কী—না।
সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র (এসসি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋদি তালুকদার বললেন, ছবিটি দেখে অনেক ভালো লেগেছে। এটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীর উপর নির্মিত। বঙ্গবন্ধুর আর্দশ পাঠপুস্তকে পড়েছি, আজ এই ছবির মাধ্যমে বাস্তবে দেখলাম।

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী অঙ্কিতা দে বললেন, আমরা এতোদিন পড়ার বইয়ে পড়েছি। আজকে নিজের চোখে দেখে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিলাম। অনেক নতুন কিছু শিখতে পেরেছি। ছবির শেষের দৃশ্য দেখে আমার সঙ্গে যারা বসেছেন, তারা আবেগ প্রবণ হয়েছে। অনেকে কান্না করেছে। এই ছবিটি যেনো প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়ে দেখানো হয়।
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাঙ্খিতা দে বললেন, শেখ রাসেল মা’র কাছে যেতে চেয়েছিলেন, এই দৃশ্য দেখে আমরা সবাই আবেগ প্রবণ হয়েছি। সবার উচিত এই সিনেমাটি দেখা। আমাদেরকে দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান মৌ বললেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ আমাদেরকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। একজন সাধারণ মানুষ থেকে অসাধারণ হয়ে একটি জাতির রূপকার হয়েছেন তিনি। স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ ও দেশের বাইরের শত্রুরা তাঁকে সপরিবারে যে হত্যা করলো এটা আমাকে শিহরিত করেছে। তাঁর শোকাহত পরিবারকে এতো বছর পরেও কীভাবে সান্ত্বনা দেবো সে ভাষা আমাদের জানা নেই।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্রটি দেখে তারাও আবেগ প্রবণ হয়েছেন।
শহরের উত্তর আরপিননগরের বাসিন্দা ফারহানা সিদ্দিকা বললেন, আমার মেয়েকে নিয়ে আসছি। বাচ্চারা বই পুস্তক পড়ে এতোটা বুঝবে না, যতটা ছবি দেখে বুঝতে পারে। জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের পরিমাণ যে কত, তা এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে।
সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র (এসসি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ক্ষিতিশ চন্দ্র দাস বললেন, ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি নতুন প্রজন্মকে দেখাতে হবে। আমরাও বইয়ে পড়েছি। আজকে দেখে সেটি উপলব্ধি করলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু জীবনের একটা অংশ জেলে কাটিয়েছেন। দেশকে ভালোবেসে, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন। এই বিষয়গুলো আজ চলচিত্রে নিজের চোখে দেখলাম।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বললেন, ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটি জেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় দেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬ টা থেকে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন চলছে তিনটি শো, ১৯ তারিখ পর্যন্ত দেখানোর কথা ছিল। নানা শ্রেণি পেশার মানুষ সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানোয় আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র “মুজিব: একটি জাতির রূপকার”। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, নুসরাত ফারিয়া, রিয়াজ আহমেদ, দিলারা জামান, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, জায়েদ খান, খায়রুল আলম সবুজ, ফেরদৌস আহমেদ, দীঘি, রাইসুল ইসলাম আসাদ, গাজী রাকায়েত, তৌকির আহমেদ, মিশা সওদাগরসহ দেশের শতাধিক খ্যাতিমান শিল্পী।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন