প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:৪৮
জামালগঞ্জের সদর ইউনিয়নের ভাটি লালপুরে বাড়ির আঙ্গিনায় বস্তায় আদা চাষ করে সফল হয়েছেন নারী মনোয়ারা বেগম। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয় করছেন তিনি। উৎপাদন খরচ বাদেও কয়েকগুণ বেশি লাভ দেখে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য চাষীরা। শুধুমাত্র মনোয়ার বেগমই নন, তার মতো এই উপজেলায় আরও অন্তত ১১ জন এ বছর বস্তায় আদা চাষ করেছেন।
কৃষি বিভাগ বলেছে, আধুনিক সময়ে বিভিন্ন পন্থায় কৃষক-কৃষাণীরা বিভিন্ন জাতের ফসল আবাদে ঝুঁকছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ অঞ্চলে বস্তায় আদা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় সবুজের সমারোহে পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। মাঝে মাঝে লাগানো হয়েছে অন্য সবজিও।
মনোয়ারা বেগম বলেন, বাড়ির আঙ্গিনাটি ছায়াযুক্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ৬০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছি। নিজের গরু ও আশপাশের বাড়ি থেকে গোবর সার ব্যবহার করায় তেমন খরচ হয়নি। শুধুমাত্র ৪ হাজার টাকায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে বীজ এনে এবং ৬০০ টাকায় বস্তা কিনে আদা চাষ করেছি। এ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার আদা বিক্রি করতে পারবো আশা করছি।
আরেক আদা চাষী ফাজিলপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, তিনি বাড়ির আঙ্গিনার ৫ শতক জায়গায় ৩০০ বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি আরও জানান, অন্যান্য ফসল চাষের খরচের তুলনায় বস্তায় আদা চাষের খরচ অনেক কম। রোগ বালাই ও পরিচর্যা খরচও কম। এছাড়াও বন্যা বা খরায় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়। গত বছর ২০০ বস্তায় আদা চাষ করেছিলাম। এবার ১০০ বস্তা বেশি করেছি। আশা করছি, খরচ বাদে ৩ গুণ বেশি লাভ হবে। আগামী বছর ৫০০ বস্তায় আদা চাষ করার পরিকল্পনা আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, এ বছর জামালগঞ্জ উপজেলায় অনেকেই বস্তায় আদা চাষ করেছেন, যা গত বছরের চেয়ে বেশি। উপজেলার প্রতিটি পরিত্যক্ত বাড়ির আঙ্গিনায় ১০ থেকে ১৫ বস্তায় আদা চাষ করলে আদা আর বাজার থেকে কিনতে হবে না। এজন্য আমাদের কৃষকদের আদা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করছি। এ বছর আশানুরূপ ফলন হবে আশা করছি। বস্তায় আদা চাষে ঝুঁকি ও খরচ কম থাকায় আগামী বছর অনেকেই আদা চাষ করার পরামর্শ চাচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন