প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ২১:৪৫
আগাম জাতের আমন ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ ধান চাষ
আগাম জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি গোলাপ মিয়া। অনুকূল আবহাওয়া, নিয়মিত বৃষ্টি এবং সঠিক জাতের ধান চাষাবাদে ফসল ভালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের মতো গোলাপ মিয়া এ বছর রোপা আমন মৌসুমে আগাম জাতের বীজ সংগ্রহ করে রোপণ করেন। তিনি আশা করছেন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে দশ দিনের মধ্যে ঘরে সোনালী ফসল উঠবে।
বলছিলাম দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের একে এম আসকির মিয়ার ছেলে গোলাম মিয়ার কথা। গোলাপ মিয়া ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ জাতের আগাম আমন ধানের চাষ করেছেন, যা তাকে ভালো ফলনের আশা জুগিয়েছে। তিনি জানান, ইউটিউব দেখে এক বন্ধুর সহায়তায় আগাম জাতের ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ জাতের বীজ সংগ্রহ করেছেন।
গোলাম মিয়া বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র কৃষক। একজন উদ্যোক্তাও বলতে পারেন। আমি এ বছর বগুড়া থেকে আগাম জাতের আমন ধানের বীজ সংগ্রহ করেছি। ইউটিউবে দেখেছি, ১০৫ দিনের মধ্যে ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তোলা যায় এবং ফলনও ভালো। এই বীজগুলোর জন্য সুনামগঞ্জের অনেক জায়গায় খোঁজ নিয়েছি, পাইনি। এরপর আমার এক বন্ধুর সহযোগিতায় বগুড়া থেকে এই বীজগুলো সংগ্রহ করেছি। আমি প্রায় ২৬ কেয়ার জমিতে এই দুই জাতের ধান রোপণ করেছি। ব্রি-৭৫ জাতের ধান রোপণ করেছি ১৪ কেয়ার এবং বাকি ১২ কেয়ার জমিতে বিনা-৭ জাতের ধান রোপণ করেছি।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, নিয়মিত বৃষ্টি এবং পরিচর্যার কারণে আল্লাহর রহমতে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছি। আশাকরি আগামী কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহে ধান কেটে ঘরে তোলা যাবে। প্রতি কেয়ার জমিতে প্রায় ১৮ মন ধান হবে আশা করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমি তিন বছর ধরে আমন ধান এবং রবি শষ্য চাষ করি। গত বছর আলু, মরিচ, ধনিয়া, রসুন, পেঁয়াজ সহ হরেক রকম ফসলের চাষ করেছিলাম। ভালো ফলন না হওয়ায় এবং ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে লোকসান হয়েছে প্রায় সাত লক্ষ টাকা।
গোলাপ মিয়ার এই জমিতে নিয়মিত পরিচর্যার কাজে সহায়তা করছেন রাশিদ মিয়া। তিনি বলেন, আমি মালিকের জমিতে নিয়মিত কাজ করছি। ক্ষেতে সময়মতো সার দেওয়া এবং পরিচর্যা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে বৃষ্টিও হয়েছে। যে কারণে ভালো ফলনও হবে আশা করছি।
ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, গোলাপ মিয়া একজন ভালো উদ্যোক্তা এবং সফল কৃষক। তিনি এ বছর আগাম জাতের আমন ধানের বীজ রোপণ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং তার পরিশ্রম, আল্লাহর রহমতে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন গোলাপ মিয়া। তবে তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ বা সহযোগিতা পাননি। পেলে আমাদের এলাকায় আরও বেশি চাষ হতো, কৃষকেরা উৎসাহিত হতো এবং তারা আমন ধানের চাষ করে লাভবান হতো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে আমন ধানের ফসল একমাসের মধ্যে কাটা শুরু হবে। আগাম জাত হিসেবে ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ জাতের আমন ধান আগামী সপ্তাহে বা দশদিনের মধ্যে কৃষকেরা কেটে ফেলতে পারবে। আমাদের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের গোলাপ মিয়া আগাম জাতের ব্রি-৭৫ এবং বিনা-৭ জাতের আমন রোপণ করেছেন, ভালো ফলনও হয়েছে। তাকে সহযোগিতার জন্য দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই এলাকায় যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন, তিনি কেন নিয়মিত এই এলাকায় যাচ্ছেন না, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন