প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৩ ২২:৩৮
সুনামগঞ্জে সময়ের আগেই কাটা শুরু হয়েছে আমন ধান। মাত্র ১২০ দিনেই গোলায় ধান তুলতে পেরে উচ্ছাসিত কৃষকরা। তবে এই ধান সাধারণ আমন নয়। এসব ধান বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত বিনা ১৭ জাতের আগাম আমন ধান। বিনা আমন ধান মওসুমের আগেই ঘরে তুলছেন কৃষকরা। এ ধান স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় পানি ও সার কম লাগায় খরচ হয় কম। রোগ বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী থাকায় ফলন হচ্ছে বেশী। আমন ধানের এমন জাত পেয়ে চাষ করতে বাড়তি আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা।
হাওর ও কৃষি প্রধান সুনামগঞ্জে আমন জমির পরিমান ৮০ হাজার হেক্টর। তবে চলতি মওসুমে চাষাবাদ হয়েছে ৮৩ হাজার ৩৬৯ হেক্টর। চারিদিকে এখন সবুজ ধানের সমারোহ। সবে মাত্র আমন ধান রোপন শেষ হয়ে, বেড়ে উঠছে ধানগাছ। কারো কারো জমিতে ধানের ফুল আসতে শুরু করেছে। তবে এরই মধ্যে কিছু কিছু জমিতে বেশ আগেই পেকে সোনালী হয়ে গেছে আগাম জাতের আমন ধান। মওসুমের আগেই পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। এটি সম্ভব হয়েছে বিনা উদ্ভাবিত স্বল্পমেয়াদী বিনা ১৭ জাতের ধান। অন্য আমন ধান পাকতে ১৬০—১৭০ দিন লাগলেও এ ধান ঘরে তুলতে সর্বোচ্চ সময় লাগছে ১২০ দিন। স্বল্প মেয়াদি হওয়ায় উৎপাদন খরচও লাগে অনেক কম, ফলন হয় বেশী। এ ধান কাটার পর পর বোরো মৌসুমের আগেই এই জমিতে ফলানো যাবে আরেকটি ফসল। এমন জাতের ধান চাষ করতে পেরে কৃষকরাও খুশি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বসন্তপুরের কৃষক ওমর চাঁন দাস বলেন, অল্প দিনে পুরো ফসল পাওয়া যায় এমন ধান সম্পর্কে আগে জানতাম না। কৃষি অফিসারের কাছ থেকে জেনে চাষাবাদ করে ১২০ দিনেই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। বাকি দিনে বোরো মৌসুমের আগে আমরা আরেকটা ফসল উৎপাদন করতে পারবো। এক জমিতে এখন তিন ফসল ফলানো যাবে।
বিধান চন্দ্র দাস বলেন, অল্প দিনেই ফসল কর্তনযোগ্য হওয়ায় সেচ, সার সহ অন্যান্য খরচ কম এবং ফলন বেশি। এরপর আবার একই জমিতে আরেক ফসল উৎপাদন। এই ধান চাষ করলে সকল কৃষক লাভবান হবেন।
সঞ্জয় কুমার বলেন, সারা হাওর এখনো সবুজ। কোনো জায়গায় হয়তো ফুল বের হচ্ছে মাত্র। কিন্তু এই ধান কৃষকরা এখনই কেটে নিচ্ছেন। এটা দেখে আমরাও উৎসাহিত হচ্ছি। আগামীতে আমরাও এই ধান করবো।
দোয়ারাবাজার উপজেলার আমবাড়ি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা রবিন বলেন, উৎপাদন লক্ষমাত্রা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০ জন কৃষককে বিনা থেকে উপহারসরুপ বিনা ১৭ ধান এনে দিয়েছিলাম। সময়ের আগেই ধান তুলা ও ভালো ফলন দেখে এখন অন্যান্য কৃষকেরা যোগাযোগ করছেন এই ধানের বীজ দেয়ার জন্য।
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র সুনামগঞ্জের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, আমাদের এই ধানের জাতটি স্বল্পদিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায় তাই খরচ কম হয়। রোগ বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় ফলন ভালো পাওয়া যায়। পাশাপাশি এই ধান তুলে বোরো মৌসুমের আগেই সরিষা, বাদাম সহ অন্যান্য আরেকটি ফসল ফলানো যায়। তাই কৃষক এই ধান চাষে লাভবান হবেন বেশি। সুনামগঞ্জে এবছর মোট ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বিনা ১৭ ধান চাষ হয়েছে। এর থেকে ফলন আসবে ২৮ হাজার মেট্টিক টন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন