দুর্গন্ধে বিপন্ন নির্মল পরিবেশ

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৫ ২২:৫৮

জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলা তাহিরপুরের গ্রামগুলোতে এখনও রয়েছে ঝুলন্ত পায়খানার ব্যবহার। এর অধিকাংশই রয়েছে হাওর ও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে। বিগত বিভিন্ন সরকারের সময় দেশব্যাপী শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নিশ্চিতে নানা প্রকল্প ও কর্মসূচি পরিচালনা করে। একাধিক সংস্থাও উপজেলায় নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর পরেও চলমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেনি সেভাবে।

 


তাহিরপুরের হাওর ও নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে অহরহই নজরে পরে অস্বাস্থ্যকর এসব পায়খানা। হাওর ও নদীপথে নৌ-চলাচলে দেখা যায় একপাশে ঝুলন্ত পায়খানা থেকে মল পড়ছে, অপরদিকে গৃহস্থালির পরিবারের লোকজন সেই উৎসের পানি ব্যবহার করছে ঘরের কাজে। কেউবা থালাবাসন ধুয়ে নিচ্ছে, আবার অনেকে গোসল করছে। এ সমস্ত দৃশ্য অনেকেই ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করছেন। কেউ করছেন ট্রল, আবার কেউবা জনসচেতনতার বার্তা দিচ্ছেন। বিশেষ করে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়া হাউসবোট ও দেশীয় ট্রলারগুলোর কথা তো বলে শেষ করা যাবে না। নদীপথ দিয়ে নৌকাগুলো চলাচলের সময় যেন দেখা যায় নদী ও হাওরে মল ঝরছে।

 


শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা শাহগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলী বলেন, নোয়ানগর গ্রামটি ১৩০ খানার গ্রাম। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৫০টি পরিবার খোলা পায়খানা ব্যবহার করে আসছে। তিনি আরও জানান, এমন অবস্থা শুধু নোয়ানগর গ্রামেই নয়, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মারালা, সাহেবনগর, গোপালপুর, রাজধরপুর, শাহগঞ্জ, সুলোমানপুর, উমেদপুর, লামাগাঁও, রামসিংহপুর, শাহগঞ্জসহ অসংখ্য গ্রামে বর্তমান আধুনিক যুগে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।


নদী-নালা ও হাওরের পানির সঙ্গে মল মিশ্রিত হয়ে পানি দূষণসহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। এ থেকে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কৃমি, জন্ডিসসহ নানা রোগের জীবাণু ছড়াচ্ছে বলে অভিমত দিয়েছেন সচেতন মহলের সদস্যরা।


তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাশাদ আহাম্মেদ বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে খোলা পায়খানা ব্যবহার না করার জন্য পরিবারগুলোকে বুঝিয়ে থাকেন। এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরাও বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। খোলা পায়খানা ব্যহারের কারণে হাসপাতালে ডায়রিয়া, আমাশয়ে আক্রান্ত রোগী বেশি আসছে। সমস্যা সমাধানে সরকার এবং এনজিও সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

 


উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, তাহিরপুরের হাওরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে সর্বত্রই রয়েছে খোলা পায়খানার ব্যবহার। তবে কোন ইউনিয়নে কী পরিমাণ খোলা পায়খানা ব্যবহার করা হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান তাদের অফিসে নেই।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, মানসম্মত পায়খানা ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে। বর্তমানে তাহিরপুরে কয়েকটি এনজিও কাজ করছে। খোলা পায়খানার ব্যবহার উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে। এনজিওগুলোকে বলে দেওয়া হবে এ বিষয়ে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে একটু বেশি নজর দেওয়ার জন্য।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার