কর্মমুখর সুরমার চর

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ ২৩:৪৯

শীতকালীন সবজি চাষ

জামালগঞ্জে সুরমা নদীর পানি নেমে যাওয়ায় দুইপাশে চর জেগে উঠেছে। নদীর বুকে জেগে উঠা চর পলি মাটি মিশ্রিত হয়ে উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে মরিচ, আদা, হলুদ, বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ, টমেটো, শিম সহ নানা ধরনের শাক-সবজির চাষ হচ্ছে। এতে বেড়েছে কর্মসংস্থান, কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। 
উপজেলার সদর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের চাষি জাহেদুল ইসলাম জানান, নদীতে চর পড়ায় ফসলের আবাদ শুরু করেছি। চরের আশপাশের সব কৃষক বিভিন্ন শাক-সবজি চাষে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে, বিশেষ করে মরিচ চাষে। নদীর পানি নেমে যাওয়ায় সেলু মেশিন দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে অনেক জমিতে, কয়েকদিনের মধ্যে পুরো চরাঞ্চল সবুজ ফসলে ভরে যাবে। 
সরজমিন গিয়ে জানা যায়, মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাষীরা মরিচ চাষে বেশি আগ্রহী। উপজেলাজুড়ে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হয়েছে বীজতলা তৈরির কাজ। চলতি মাসে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করেছেন চাষীরা। আগামী ডিসেম্বরের শেষ সাপ্তাহ থেকেই বাজারে উঠবে এসব মরিচ। 
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে ৪০০ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসল চাষ করা হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই ৩ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়াও শীতকালীন সবজি চাষ হবে ১ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। 
উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কামিনীপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক জালাল উদ্দীন জানান, নদীর চরে মো. জানু মিয়া ৩ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তিনি কৃষি শ্রমিক হিসাবে মরিচের চারা রোপণ করছেন। প্রতিদিন তিনি ৬০০ টাকা পান, এই টাকা দিয়ে তার সংসার চলে। কালীপুর গ্রামের রানা দেবনাথ বলেন, গতবছর ১ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছিলাম। বাজারে মরিচের দাম বেশি থাকায় এবার দেড় বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। তবে শ্রমিক ঠিক মতো না পাওয়ায় রোপণ করতে সময় বেশি লাগছে। আশাকরি, আগামী সপ্তাহে চারা সবুজ রূপ ধারণ করবে। 
সুরমা নদীর চরে কম খরচে উৎপাদন ভাল হয় উল্লেখ করে মিলন দেব নাথ জানান, চলতি মৌসুমে সুরমার পানি দেরিতে নামায় মরিচ চাষে একটু বিলম্ব হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মাঝে ফসল এলে বাজারে দাম ভাল পাবো। আমি এবার ২ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। 
একই গ্রামের রাজমোহন দেবনাথ জানান, গত বছর বৃষ্টির কারণে চারা নষ্ট হয়ে যায়, ২ বার চারা রোপন করতে হয়েছে, তাই খরচের তুলনায় লাভ একটু কম হয়েছে। এবার একই জমিতে মরিচ আবাদ করছি। আশাকরি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মরিচের বাম্পার ফলন হবে। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, গতবছর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে মরিচ ফলনে কিছুটা কম হলেও এবার উপজেলায় প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসল এবং ১৪৪৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, আগে সুরমা নদীর দুইপাড়ে হাতেগোনা কয়েকজন কৃষক ফসল ফলাতো, এখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় এবং পরামর্শে অনেক নতুন নতুন জাতের মসলা জাতীয় ফসল ও শাক-সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। সুরমা নদীর চরে পলি মাটি থাকায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে যাচ্ছে, যার কারণে কৃষকরা বেশি লাভবান হচ্ছে। 

 

 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার