প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪০
দীর্ঘ ৫ বছর ধরে মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে ‘ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ’ নামের সংঘটনটি। রক্তের অভাবে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ায় সবার কাছে ‘ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ’ আস্থার এক পরিচিতি নাম।
জানা যায়, ২০২০ সালে সূচনা হওয়ার পর থেকে সংগঠনটি নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি পালন করে আসছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮৩ জন রোগীকে রক্ত প্রদান করা হয়েছে। এবছর ৩৮৮ জনকে বিনামূল্যে রক্ত দেওয়া হয়েছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কার্ড প্রদান কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এই সংগঠনে স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কাজ করছেন মো. উজ্জ্বল হোসেন, রাহাত আলম হৃদয়, মো. শিব্বির রহমান, মো. উজ্জ্বল, আব্দুর রহমান, মো. সাব্বির আহমদ আরিফ, নাহিদ ইসলাম, মো. সুমন মিয়া, হামিদুল ইসলাম, আখলাকুর রহমান। এই সংঘটনের স্বেচ্ছাসেবীরা শুধু রক্তদানেই সীমাবদ্ধ নয়, নানা সময়ে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে থাকেন। এসব ক্যাম্পে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ডায়বেটিস, রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। অসচ্ছল রুগীদের জন্য তাদের এই উদ্যোগ অনেক পরিবারকে উপকৃত করেছে।
সংগঠনের অন্যতম সদস্য মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, মানুষের পাশে থাকা এবং মানবিক কাজের ধারা অব্যাহত রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা শুধু জামালগঞ্জেই নয়, দেশের যে কোন হাসপাতালে রক্তের প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সেখানে রক্ত পৌঁছে দেই। রবিবার (২ নভেম্বর) শান্তিগঞ্জ উপজেলার একজন ক্যান্সার রোগীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে ৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা মনেকরি সমাজের বিত্তবানরা মানবিক কাজে সহযোগিতার হাত বাড়ালে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে।
সংগঠনের আরেক সদস্য সাব্বির আহমদ আরিফ বলেন, আমরা শুরু থেকেই মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। রক্তের অভাবে যেন কোন মানুষ কষ্ট না পায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। আজকে সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে আছে বলেই ‘ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ’ সংগঠনটি এতটা পথ এগুতে পেরেছে। আগামীতেও মানবিক সেবা অব্যাহত রাখতে চাই।
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সখিনা বেগম জানান, আমি গর্ভবতী অবস্থায় জামালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হলে রক্তের প্রয়োজনীয়তা দেয়। তখন ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জের মোবাইলে ফোন করলে তারা তাৎক্ষণিক এসে ২ ব্যাগ রক্ত দিয়ে যায়। সময় মতো রক্ত না পেলে আমি ও আমার সন্তান বাঁচতাম না। শুধু আমি নই, আমার মতো শত শত রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে তারা এগিয়ে এসে রক্তদান করে। আমি তাদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের সোহা আক্তার জানান, সন্তান প্রসবের জন্য জামালগঞ্জ হাসপাতালে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান- ডেলিভারির জন্য রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ এর নম্বর নিয়ে ফোন দিলে ১০ মিনিটের মধ্যে ৩ জন এসে ৩ ব্যাগ ই+ রক্ত বিনামূল্যে দিয়ে গেছেন। রক্ত না পেলে চিকিৎসক আমাকে সিলেটে পাঠিয়ে দিতেন। আমি তাদের এই মহৎ উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই, আল্লাহতায়ালা যেন তাদের হায়াত দান করে।
জামালগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মঈন উদ্দিন জানান, ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ এর ১০ জন তরুণ অসহায় ও গরিব রোগীদের রক্ত দিয়ে মানবিক কাজ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন চিকিৎসা সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজও করে যাচ্ছে। যে কোন রোগীর রক্তের প্রয়োজনে তাদের ফোন দিলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রুপের যে কোন সদস্য বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে থাকেন। উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রক্ত দিয়ে সেবা করে যাচ্ছে। আমি তাদের এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর জানান, ব্লাড ব্যাংক জামালগঞ্জ ইতোমধ্যে জামালগঞ্জে মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানাই। তাদের এই মানবিক কাজে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করে যাবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন