শিক্ষকের ডাস্টারের আঘাতে ছাত্রী আহত

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:৫৪

অসাবধানতা বসত আঘাতের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত শিক্ষক

জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গত রবিবার দুপুরের দিকে শ্রেণীকক্ষ শিক্ষক শূন্য থাকায় হইচইয়ে মাতে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। এই হইচই নজরে পড়ে প্রধান শিক্ষক ফররুখ আহমদের। তিনি রেগে প্রথমে সবাইকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন, পরে টেবিলে থাকা ডাস্টার দিয়ে আঘাত করলে রক্তাক্ত হয় শিক্ষার্থী সাইদা বেগম। সহপাঠী ও অভিযুক্ত শিক্ষক মিলেই টিস্যু দিয়ে রক্ত মুছার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। 

 


ঘটনাটি রবিবারের হলেও সোমবার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মূহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। ভিডিওটি শেয়ার করেন নেটিজেনদের পাশাপাশি সেলিব্রেটিরাও। শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। 


ভিডিওটি দেখে আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই বেশি করেছে মানুষ। তবে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এই ঘটনার পর ট্রমায় ভুগছেন প্রধান শিক্ষক নিজেই। আলাদা থাকা নিজের চেয়ার ছেড়ে সহকারী শিক্ষকদের পাশে মনমরা হয়ে বসে আছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন অবস্থা দেখে হতাশ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরাও। স্থানীয়রাও বলছেন, ভাঙা টিন শেড স্কুল থেকে বহুতল ভবনে গড়ে তোলার পেছনে বেশি অবদান এই প্রধান শিক্ষকের। 

 


অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফররুখ আহমেদের সাথে কথা বলেও বোঝা যায় অনেকটা বিষন্ন অবস্থায় আছেন তিনি। রবিবারের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইতেই বলেন, অসাবধানতার কারণে এমন ঘটনা ঘটে গেছে যা কোনদিন কাম্য নয়। এটা অনাকাক্সিক্ষত, আমি নিজে অনুতপ্ত ও লজ্জিত।  সবার কাছে দু:খ প্রকাশ করছি। সেদিন শিক্ষার্থীদেরকে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও উশৃঙ্খলতা করছিল। তাই রেগে গিয়ে অসাবধানতা বসত ডাস্টারের আঘাত মাথায় লেগে যায়। ২২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এমন ঘটনা কোনদিন ঘটেনি। 

 


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীকে পিটানোর ভিডিওটি ভাইরাল হলে আলোচনায় আসে বিষয়টি। পরে বিচার শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয়রা। 
সহকারী প্রধান শিক্ষক ফয়জুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে এরকম ঘটনা কাম্য নয়। এটা দুর্ঘটনা। আমরা আহত শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। স্থানীয়রাও যোগাযোগ করেছেন। সবাই মিলে এটা সুন্দর সমাধান হয়ে যাবে। 

 


তিনি আরও বলেন, এই বিদ্যালয়টা উনার হাতেই প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শিক্ষকতা করে আসছেন। স্কুল ও শিক্ষার্থীর উন্নয়ন ছাড়া অন্য কিছু কোনদিন পাওয়া যায় নি। বিদ্যালয়ে বেত নিষেধ তাই শিক্ষার্থীদের উচ্ছৃঙ্খলতায় হঠাৎ রেগে গিয়ে বেত না পেয়ে পাশে থাকা ডাস্টার হাতে থাকায় অসাবধানবশত এই দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। 
বিদ্যালয়ে পাওয়া যায় নি আহত শিক্ষার্থী সাইদাকে। বাড়িতে গিয়ে জানা যায় চিকিৎসার জন্য বাবার সাথে বাইরে গেছে। আহত শিক্ষার্থীর মা রুজিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ের মাথায় আঘাত লেগেছে যদি ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হয় এর দায়ভার কে নিবে, আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই। 

 


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বললেন, বিষয়টি অবগত আছি। আমার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার