প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:৩৬
শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতিতে ভরা সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অব্যবস্থাপনা ও দায়সারা ভাবে চলছে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৫৫টি গ্রামের প্রায় ২ লক্ষাধিক জনসংখ্যার চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। কিন্তু বিপুল পরিমাণ এই জনসংখ্যার চিকিৎসায় বিশ্বাসভঙ্গ করছেন উপজেলা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান যোগদানের পর থেকে ডাক্তার, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টরা যার যার মতো অফিস করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের বেলা ডাক্তাররা হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিলেও, রাতের বেলায় ডাক্তারের পরিবর্তে চিকিৎসা দিচ্ছেন ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান নিয়মিত তদারকি না করায় দিন দিন হাসাপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে দিনে-রাতে জরুরী বিভাগে গুরুতর কোন রোগী আসলে ডাক্তার ও ডিপ্লোমা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টরা পূর্ণাঙ্গ সেবা না দিয়ে দায়সাড়া ভাবে সেবা দিয়ে দ্রুত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল না হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করছেন। এতে প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান মাসের অধিকাংশ সময়ে নিজ অফিসে অবস্থান না করে কাগজে উপস্থিতি দেখিয়ে নিজ জেলা মৌলভীবাজার ও সিলেট শহরে অবস্থান করেন। কেউ খোঁজতে গেলে দেখা যায়, উনার অফিসের দরজা খোলা, ফ্যান ও এসি চলছে। কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন স্যার বাইরে আছেন, মাঠে আছেন। এভাবেই দিনকে দিন দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ রয়েছে ডা. ইকবাল হাসানের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ও জয়কলস ইউনিয়নে থেকে আগত দুই বৃদ্ধ মহিলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় উপজেলা সমাজসেবার অধীনে থাকা রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে আর্থিক সহায়তা ও ঔষধ বিনামূল্যে প্রদানের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসানকে সুপারিশ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রোগী কল্যাণ সমিতির ফান্ডে টাকা নাই এবং নানা অজুহাতে রোগীদেরকে ফিরিয়ে দেন বলে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার একঘেয়েমির কারণে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের সরকারি রোগী কল্যাণ ফান্ডের অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলার হতদরিদ্র রোগীরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোছা. তাছলিমা আক্তার লিমা বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতিতে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সুপারিশ ক্রমে আমরা রোগীকে যাতায়াত ভাড়া, ঔষধের মূল্য সহ নানা আনুষাঙ্গিক সহায়তা দিয়ে থাকি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হাসান অভিযোগের বিষয়ে বলেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রোগী কল্যাণ ফান্ডের অর্থায়নে যে ফার্মেসীর অধীনে ওষধ বিতরণ করা হতো, সেই ফার্মেসীর সাথে আমাদের কন্ট্রাক্ট বন্ধ রয়েছে। ১-২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন ফার্মেসীকে দায়িত্ব দিলে পুনরায় বিতরণ করা হবে। রাতে ডাক্তারা ডিউটি না করার অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, যারা ডিউটি করেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন শরীফি বলেন, সমাজসেবা অধীনে রোগীদের জন্য যে ভাতা চালু আছে। সেগুলো পাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিয়মের ভিতরে থাকলে সেটা না দেওয়ার কোন কারণ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা নেব। এছাড়া চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনিয়ম করে থাকলে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিকিৎসকরা ডিউটি পালন না করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন