প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:৪২
শহরের এক ব্যতিক্রম চিকিৎসক
সুনামগঞ্জ জেলার অতি পরিচিত একটি নাম ডা. অতনু ভট্টাচার্য। চিকিৎসক হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যার পরামর্শ নিতে রাতের পর রাত জেগে নিতে হয় টিকেট। বিভিন্ন ভাবে এই টিকেট দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নিলেও অতিরিক্ত সেবাগ্রহীতার কারণে সুফল মিলছে না। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ টার অধিক রোগী দেখেন না এই চিকিৎসক। যার কারণে অনেকে মনঃক্ষুণ্ন হন, করেন অনেক সমালোচনাও। ফেসবুকেও দেখা যায় কিছু মানুষের দুর্ভোগ আর তিক্ততার কথা, তবে এসব কিছুই করা হচ্ছে রোগীর স্বার্থে। অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে নয় রোগীদের সেবায় সন্তুষ্টি চান অতনু। রোগীরা যেন তার সেবায় সন্তুষ্টি পান এবং তিনি নিজেও যেন রোগীকে সেবা দিয়ে সন্তুষ্ট হন। ফেসবুকে দেয়া ভিডিও বার্তায় এমনটি জানালেন এই চিকিৎসক।
তিনি বলেন, ৩০ জনের অধিক রোগী আমি দেখতে চাই না এই নিয়ে আমার পরিচিত অনেক মানুষজন কষ্ট পান। সঠিক পরামর্শ দিতে হলে সময় নিয়ে রোগী দেখতে হয়। যদি আপনাকে (রোগীকে) সন্তুষ্ট করতে হয় তাহলে আমাকে একটা ন্যূনতম সময় দিতে হবে। সে সময়টুকু আমাকে না দিলে আমি ভালো করে রোগী দেখতে পারব না। রোগীও সন্তুষ্ট হবে না। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট নিয়ে একটি রোগী দেখতে হয়। এই হিসাবে আমি যদি প্রতিদিন ৩০ টা রোগীকে দশ মিনিট করে সময় দেই তাহলে ৩০০ মিনিট অর্থাৎ পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। এর ফাঁকে অন্তত ২০ টা রিপোর্ট দেখি ৩ মিনিট করে আরও এক ঘন্টা। এই হিসেবে সব মিলিয়ে ৬ থেকে সাড়ে ছয় ঘন্টা সময় যায় এই রোগী দেখতে। এখন যদি আমি সময় কমিয়ে ৫ মিনিট করে রোগী দেখে তাহলে কিভাবে হিস্ট্রি নিবো কিভাবে ঔষধটা চিন্তা করে লিখবো কিভাবে রোগীকে বুঝাব, কাউন্সেলিং করবো।
ডা. অতনু আরও বলেন, এখন আমি যদি ৪টা থেকেও চেম্বার করি তাহলে রাত দশটা বাজে এই ৩০ টা রোগী দেখতে। তখন একই কাজ দীর্ঘ সময় ধরে করতে করতে শরীর ও ব্রেইন টায়ার্ড হয়ে যায়। মাথা ঝিম ঝিম ভাব চলে আসে ব্যাথা করে। এরকম সময়ে দাবি নিয়ে অনেক মানুষ আসেন রোগী দেখাতে, অনেক সময় অনেকজনকে ধরে আমার কাছে আসেন। জোর করেন রোগী দেখাতে। এসময় আমি রেসপন্স না করলে আমাকে নিয়ে অনেক নাখোশ হন, ফেসবুকে কেউ কেউ স্ট্যাটাসও দিয়ে দেন।
অনেকে লিখেন টাকা দিয়ে রোগী দেখাবো ডাক্তারের দেখতে সমস্যা কি। কিন্তু আমি যদি ভালো করে রোগী দেখতে চাই তাহলে সময় নিয়ে মনযোগ দিয়েই দেখতে হবে। আমি যদি মনে করি আমি শুধু টাকা রোজগার করব তাহলে এই ৫ ঘন্টায় ১০০ রোগী দেখা যাবে। তাতে এই রোগীরাও লাভবান হবে না আমি নিজেও সন্তুষ্ট হবো না। আমি চাই যেই রোগী আমার কাছে আসুক আমি নিজে যেন তাকে দেখে সন্তুষ্ট হই। যেন আমি সন্তুষ্ট হই আমি এই রোগীকে আমার জ্ঞান অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টায় কোন ত্রুটি রেখেছি- এটা আমার মনকে পীড়া দিবে। আপনারা চেষ্টা করবেন এই নিয়মগুলো মানার। ৩০টার অধিক রোগী আমি দেখতে চাচ্ছি না। যাদেরকে দেখবো তাদেরকে ভালোভাবে সেবা দিতে পারি, ইমার্জেন্সি রোগীর জায়গা চেম্বার না। ইমার্জেন্সি রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। কিছুটা সুস্থ হলে পরে চেম্বারে নিয়ে আসবেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন