প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ ০৭:১৮
মেক্সিকোতে ‘ডেভিল ফিস’ বা শয়তান মাছ হিসেবে খ্যাত সাকার মাছ ধরা পড়েছে শান্তিগঞ্জের এক জেলের জালে। শস্য ভাণ্ডারখ্যাত দেখার হাওরে খাইরুল আলমের জালে ধরা পড়ে এই মাছ। গত রবিবার ভোরে হাওরের বড়দই বিলের পার্শ্ববর্তী বিল বরোঘরে মাছ ধরার জন্য সুতার জাল ফেলেন চল্লিশোর্ধ্ব জেলে খাইরুল আলম ও পঞ্চাশোর্ধ আবদুস সোবহান।
তাদের জালেই ধরা পড়ে মাছটি। হাল্কা সাদা ডোরাকাটা, মাছের পিঠের ওপরে বড় ও ধারালো পাখনা আছে। দুই পাশেও রয়েছে একই রকমের দুটি পাখনা। এর দাঁতও বেশ ধারালো। চিনতে না পারার কারণে মাছটি পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হায়দারের অফিসে নিয়ে যান তারা। পরে মাছটিকে চিহ্নিত করেন চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার।
জানা যায়, মাছটির সম্পূর্ণ নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। বৈজ্ঞানিক নাম হিপোসটোমাস প্লেকোসটোমাস। এটি মূলত: সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ঘরের ভিতর অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঢাকার পার্শ্ববর্তী নদী বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালুনদীসহ বিভিন্ন ডোবা—নালায় ও জলাশয়ে হরহামেশাই দেখা মিলছে মাছটির। পোকামাকড়, জলজ উদ্ভিদ, ছোট মাছ ও মাছের পোনা সাকার মাছের খাদ্য। আকারে মাছটির ১৬—১৮ ইঞ্চি লম্বা হয়। পানি ছাড়া ২৪ ঘন্টা বাঁচতে পারে। আমাদের দেশে কয়েক বছর আগে উপকূলীয় জেলাগুলোতে প্রথম এই মাছের দেখা মিলে। বর্তমানে ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটের মতো জায়গায়ও দেখা মিলছে এই মাছের।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হায়দার বলেন, এটি এক ধরণের রাক্ষুসে মাছ। পুকুর বা জলাশয়ে এ ধরণের মাছ থাকলে সেখানে অন্যান্য মাছ বিশেষ করে ছোট মাছ থাকতে পারে না। দ্রুত প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন এই মাছ অন্যান্য ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। একটি মাছ হাওরে পাওয়া গেছে মানে এখানে আরও সাকার ফিস আছে। হাওরের জেলেদের জন্য অশনি সংকেত এটি। সকলকে সাবধান হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, টেলিভিশনের কল্যাণে আমরা দেখেছি ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রচুর সাকার ফিস ধরা পড়ছে। এগুলো খাওয়ার উপযুক্ত নয়। সমস্ত শরীর কাঁটাযুক্ত, ভয়ংকর লাগে দেখতে। জালে ধরা পড়ার পর আবদুস সোবহান ও খাইরুল আলম মাছটিকে চিনতে পারেন নি। আমার এখানে আনার পর আমি দেখলাম এটি সাকার ফিস, চিন্তায় পড়ে গেলাম। এই মাছ যদি হাওরে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে ছোট মাছ, মাছের পোনা একটাও থাকবে না, সব খেয়ে ফেলবে। জেলেরাও কঠিন সমস্যায় পড়বেন।
জেলে আবদুস সোবহান বলেন, চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে দেখার হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি, কত জাতের মাছ আর প্রাণি আমাদের জালে ধরা পড়েছে। তবে এরকম ভয়ংকর মাছ জীবনেও দেখিনি। মাছটিকে চিনতে না পেরে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে নিয়ে যাই।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, সাকার ফিসটি মূলত: অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ ছিলো। দ্রুত প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন এই মাছটি ময়লা ও নোংরা পানিতে বেড়ে উঠে বেশি। এই মাছ ঢাকার আশপাশে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালুনদী ইত্যাদিতে বেশি মিলছে। হাওরের জন্য এটি বেশি ক্ষতিকর। যেহেতু একটি মাছের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, এখানে আরও মাছ থাকতে পারে। জেলেদের জালে এ মাছ ধরা পড়লে অবশ্যই মেরে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। এলাকার মসজিদের মাইকে ও লিফলেটের মাধ্যমে এই বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবো আমরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন