প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪৬
হয়েছে পাগলের আস্তানা, রাতে নেশাখোরদের আড্ডাখানা
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কিচেন মার্কেটের ২য় তলার কাজ ১১ বছর আগে শেষ হলেও চালু হয় নি দোকানকোঠাগুলো। মার্কেটের ৭৬টি দোকান বরাদ্দ নিয়ে জটিলতার কারণে এটি চালু করা সম্ভব হয় নি বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। দোকানকোঠা তালাবদ্ধ থাকায় এখানে জমেছে ময়লা আবর্জনার স্তূপ, আছে পাগলের আস্তানা এবং রাতে নেশাখোরদের আড্ডাখানা ও মলমূত্রত্যাগের স্থানে পরিণত হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কিচেন মার্কেটের নিচতলা নির্মিত হয়। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় তলার ৭৬টি দোকানকোঠার মধ্যে ২৩ টি দোকানকোঠা বন্দোবস্ত দেওয়া হলেও বাকি ৫৩ টি দোকান কোঠা তালাবদ্ধ রয়েছে। মার্কেট চালু না হওয়ায় একদিকে বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অপরদিকে পৌরসভাও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কিচেন মার্কেটের নিচতলায় এক পাশে মাছ বাজার চালু হলেও অপর অংশে সবজি বাজারে তেমন দোকান নেই।
সবজি বিক্রেতা মো. সেলিম আহমেদ বললেন, কিচেন মার্কেটের উপরের তলায় সুস্থ মানুষ গেলে, অসুস্থ হয়ে বের হতে হয়। এই মার্কেটের উপরে পাগল থাকে, পেশাব- পায়খানা করে। এই দুর্গন্ধ সারা মাছ বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রোগবালাই হচ্ছে। মার্কেট পরিস্কার করে, দ্রুত সময়ে দোকানকোঠা ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করে দেওয়া হোক। না হলে দিন দিন মার্কেটের পরিবেশ নষ্ট হবে।
মুদির দোকানের ব্যবসায়ী লিটন মালাকার বলেন, কিচেন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে উপরে উঠা যায় না। দ্বিতীয় তলায় যে কয়জন দোকান ভাড়া নিয়েছেন, তারা এই দোকানগুলো কাজে লাগাতে পারছেন না। দ্বিতীয় তলার দোকান কোঠাগুলো ব্যবসার উপযোগী করে দিলে খুবই ভালো হবে।
কাঁচা বাজার এলাকার পাইকারি বিক্রেতা ভীম বাবু বললেন, দ্বিতীয় তলায় আমি ৩টি দোকানকোঠা বন্দোবস্ত নিয়েছি। কিন্তু ব্যবসা করতে পারছি না, কারণ মার্কেট চালু করা হয় নি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা দোকানকোঠা বন্দোবস্ত নিয়েছি, অথচ ব্যবসার কোনো পরিবেশ নেই। এই মার্কেটে এখন পাগলের আস্তানা হয়েছে। ময়লা আবর্জনা সহ মলমূত্রের গন্ধে মার্কেটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে মার্কেট চালু করা হলে খুবই সুন্দর হতো।
কাঁচা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুমন মিয়া বললেন, আমি কিচেন মার্কেটে ২ টি দোকানকোঠা বন্দোবস্ত নিয়েছি। কিন্তু দোকানকোঠা কোনো কাজে আসছে না। মাঝখানে আগের পৌর প্রশাসক সমর কুমার পাল কিচেন মার্কেটের দ্বিতল ভবনের দোকান কোঠাগুলো দেখে গেছেন। তিনি বলেছিলেন, মাঝামাঝি একটা সিঁড়ি নির্মাণ করে দিয়ে মার্কেট চালু করবেন। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমানে এই মার্কেটে ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পাগলের আস্তানা হয়েছে। চারদিকের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি মার্কেটটি দ্রুত চালু করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ইদ্রিস মিয়া বলেন, দ্বিতীয় তলার দোকানকোঠাগুলো দশ-বারো বছর ধরে বন্ধ। সেখানে হেরোইনখোর, মদখোর, টোকাই মিলে খারাপ কাজ করে। মার্কেটটি যদি দ্রুত চালু করা হয় মাছ বাজারের সৌন্দর্য বাড়বে, সরকারও রাজস্ব পাবে।
মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সহিবুর রহমান বলেন, দ্বিতীয় তলার দোকানকোঠা তালাবদ্ধ থাকার কারণে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে মার্কেটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাগলের আস্তানা হয়েছে এটা। পচা দুর্গন্ধে ছড়াচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেট চালু করে দিলে মাছ বাজারের সৌন্দর্য ফিরে আসবে এবং ব্যবসায়ী বাড়বে, সরকারও রাজস্ব পাবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও সুনামগঞ্জ পৌরসভা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বললেন, যারা দোকানকোঠা বন্দোবস্ত নিয়েছেনুু তারা দোকান চালু করতে পারেন। ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্বিতল ভবনের ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে দেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন