জরুরি কাজেও কচ্ছপ গতি

প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ২২:০৯

‘প্রায় দশ বছর যাবৎ দোকানদারি করতেছি, চোখের সামনে সেই দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমি কি করমু এই বয়সে, কি কইরা বাচ্চা-কাচ্চা নিয়া খামু, কি কইরা মহাজনের দেনা শোধ করমু।’ 
সুরমা নদীর ভাঙনে নিজের দোকান ঘর হারিয়ে আক্ষেপ করে বলছিলেন জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মন্নানঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ছানু মিয়া। 

 


তিনি জানান, মন্নানঘাট বাজার শুরু হওয়ার পর থেকে এই বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। এক মাস আগে সুরমার ভাঙনে মন্নানঘাট বাজারের ছানু মিয়ার মতো আরও ৫ জন দোকান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিন মাসের ব্যবধানে ৬টি দোকান ভেঙে সবাই এখন বেকার। ১৮ বছর আগে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই বাজারে ১৮০ দোকান রয়েছে। এছাড়াও সবজি কেনা-বেচার জন্য বাজারটি প্রসিদ্ধ। প্রতিবছর টমেটো, মরিচ, বেগুন, শশাসহ শতকোটি টাকার বাণিজ্য এই বাজারে হয়ে থাকে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাজারটি হারিয়ে যাবে। এদিকে ভাঙনের তীব্রতার কারণে অনেকে দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন। 

 


সরজমিনে মন্নানঘাট-সংবাদপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পানি কমার সাথে সাথে মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। নদীরপাড়ের দোকানপাটের ভিটেমাটি ধসে পড়েছে নদীর বুকে। সবচেয়ে বেশি ভাঙন চোখে পড়ে বাজারের পশ্চিম থেকে প্রায় ৫০ মিটার এলাকাজুড়ে। বাজারের পাশেই সংবাদপুর গ্রাম। এই গ্রামের প্রায় দেড়শত বাড়ি নদীর ভাঙনে অন্যত্র সরাতে হয়েছে। আরও ৮ থেকে ১০ টি পরিবার এবছর অন্যত্র সরাতে হবে। 


মন্নানঘাট বাজারের দোকান মালিকদের অভিযোগ ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ ধীর গতিতে করার কারণে সকলে ভাঙনের কবলে পড়েছে। মন্নানঘাট বাজারে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বস্তা ফেলার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে গত জুলাই মাসে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার এসে মাপযোগ করে লাল নিশান টাঙিয়ে গেছে। এরপর আর ঠিকাদারের দেখা মেলে নি। এই পর্যন্ত ৬ দোকান ভেঙে গেছে, আরও ৪ দোকান হুমকির মুখে। 

 


পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, মন্নানঘাট বাজারের ভাঙ্গন রোধের জন্য জুলাই মাসে ৪০ মিটার এলাকায় ২৯ লক্ষ টাকা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জন্য দেওয়া হয়েছে। কাজটি করার কথা মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের। এর প্রোপাইটার ইকবাল হাসান। 

 


র মন্নানঘাট-সংবাদপুর বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আমজাদ জানান, কয়েক মাসের মধ্যে পানি কমার সাথে সাথে একের পর এক দোকান ভিট ভেঙে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬ দোকান ভিট ভেঙে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুই মাস আগে ঠিকাদার এসে জায়গা মেপে লাল নিশান টাঙিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত কাজ শুরু করে নি। এখন পানি কমছে ৩ থেকে ৫ ফুট করে প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে। দ্রুত কাজ না করা হলে আরও দোকান নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে নদী ভাঙন রোধ করার জন্য। 

 


মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার ইকবাল হাসান জানান, মন্নানঘাটের ভাঙন রোধের জন্য কাজের এলাকায় জিও ব্যাগ পাঠানো হয়েছে। আশাকরি আগামী সাপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে। 
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জনি জানান, মন্নানঘাটে নদী ভাঙনের কারণে স্থানীয় লোকজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা মন্নানঘাট ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। এরই প্রেক্ষিতে জরুরি ভিত্তিতে ইমার্জেন্সি কাজ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার ইকবাল হাসানকে জরুরি ভিত্তিতে ঐ কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করে ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করা হয়। ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করা হলেও বিভিন্ন অজুহাতে কাজটি শুরু করতে বিলম্ব করছে। আগামী মাসের মধ্যেই কাজটি করা সম্ভব হবে আশা করছি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার