সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশিত: ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:৩১

তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি’র সার ডিলার নিয়োগকালে ডিলারশীপ পাওয়ার জন্য ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নাজমূল হুদা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নাজমুল হুদাকে ডিলারশীপ না দিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানকে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস সারের ডিলার নিয়োগ দেয়। হাফিজুর রহমান পাশ^র্বর্তী বাদাঘাট ইউনিয়নের নাগরপুর গ্রামের রইছ উদ্দিনের ছেলে।


স¤প্রতি সার ডিলার নিয়োগের অনিয়মের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বালিজুড়ি ইউনিয়নের সয়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন। 

 


২০১৪ সালে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম দুনীর্তির অভিযোগ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, বালিজুড়ি ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত সার ভৈরব, আশুগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বাদাঘাট বাজার ইত্যাদি জায়গায় পাচার করে থাকেন সার ডিলার হাফিজুর রহমান। এই সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হলে ২০১৪ সালে জেলা প্রশাসক পত্র দিয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসার কে অবগত করেন। তারপরও তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার কোনো পদক্ষেপ নেননি।

 

এতে করে হাফিজুর রহমান অবৈধ পন্থায় সার পাচারের জন্য আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ২০২২ সালের ২২ এপ্রিল নদীপথে নৌকাযোগে ভৈরব, আশুগঞ্জে সার পাচার করা কালীন সময়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ গোপনসূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৭১ বস্তা ডিএপি সার আটক করে মামলা দায়ের করে। এই মামলা সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তাতেও হাফিজুর রহমান সারের অবৈধ পাচার হতে থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের পহেলা অক্টোবর বালিজুরী ইউনিয়নের আনোয়ারপুর বাজার সারের গুদাম থেকে ৩০০ বস্তা ডিএপি সার ট্রাকযোগে নারায়ণগঞ্জ পাঠানোর সময় বিশ্বম্ভরপুর থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র—জনতা আটক করেন। আটকের পর অবৈধ সার সম্পর্কে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে অবগত করলে বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ২ জনকে আটক করে সুনামগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে। এই মামলাটিও সুনামগঞ্জ আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

 


অভিযোগকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ করে সে ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাকে। ২০১৪ সালে বালিজুরি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের সময় বালিজুরি ইউনিয়নের নাজমুল হুদা আবেদন করেছিল। কিন্তু কৃষি অফিসের লোকজন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বাদাঘাট ইউনিয়নের নাগরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর রহমানকে সার ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়। আমি ডিলার হাফিজুরের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।


বালিজুরি ইউনিয়নের সার ডিলার হাফিজুর রহমান বলেন, ২০২২ সালে আমার বিরুদ্ধে সার পাচারের একটি অভিযোগ ছিল।  বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে যে ব্যবস্থা আমার উপর আসে, তা তো মেনে নিতে হবে।

 


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অবৈধ পন্থায় সার পাচারের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠির প্রেক্ষিতে তিনি উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীসহ তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর তিনি তা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠাবেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার