প্রকাশিত: ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:১৩
ইউএনও’র হস্তক্ষেপ
ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ৪ হাওরের ১২’শ একর জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেলো। হাওরগুলো হলো- উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বনুয়ার হাওর, পালইর হাওর, কাট্টাউরা হাওর ও নান্দিয়ার হাওর। প্রতি বছর এই হাওরগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারেন না। এ বছর বোর মৌসুমের শুরুতেই চার হাওরপাড়ের গ্রাম ছিলানি তাহিরপুর, তরং, মনতলা, কান্দাহাটি, শিবরামপুর, কামালপুর, ছিরিয়ারগাঁও ও মন্দিয়াতা গ্রামের কৃষকরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে হাওরে জলাবদ্ধতার বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগড়ি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সরজমিন পরিদর্শন করেন। এরপর চারটি হাওরের নীচু স্থান নাওটানা খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে টানা চারদিন মাটি খনন করে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে া খালটি পানি নিস্কাশনের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়। এর আগে রবিবার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাওটানা খালটির খনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন, সার্ভে দলের সদস্যগণ ও স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিগণ।
ছিলান তাহিরপুরর গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, নাওটানা খালটি কেটে দেয়ার ফলে হাওরের পানি দ্রুত সরে যাচ্ছে। এবছর আর হাওরগুলোতে তাদের জমি অনাবাদি হয়ে পরে থাকবে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, নাওটানা খালটি টানা চারদিন স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে কেটে দেয়ায় হাওরের পানি দ্রুত নিস্কাশন হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের জমি রোপণে খুবই উপকার হবে। অপরদিকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে অগ্রগতি হবে। তিনি আরও জানান, এবছর ফসল রক্ষা বাঁধের গোড়াতে এখনো ১০ ফুট পানি রয়েছে। যে কারণে বাঁধের কাজ শুরু করতে একটু দেরী হবে।
শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুদাচ্ছির আলম বলেন, বনুয়া, পালইর হাওর, কাট্টাউরা হাওর ও নান্দিয়ার হাওরের জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর হাওরগুলোর কয়েকশ একর জমি অনাবাদি থাকতো। এছাড়া হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে বিলম্ব হতো। এবছর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাঁধ কেটে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে দেয়ায় ৪টি হাওরে আর জলবদ্ধতা থাকবে না।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, বনুয়া, পালইর হাওর, কাট্টাউরা হাওর ও নান্দিয়ার হাওর পাড়ের কৃষকরা আমার কাছে এসে জানায় তাদের জমিতে প্রতি বছর জলবদ্ধতা থাকায় প্রতি বছরই তাদের জমি অনাবাদি থাকে। কৃষকদের এমন অভিযোগ শুনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সরেজমিনে নাওটানা খাল কেটে হাওরের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন