শীতে বেড়েছে সিদ্ধ ডিমের কদর

প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:১৯

বাড়তি আয় করছে অর্ধস্রাধিক যুবক

জামালগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। শীতে নানা ধরনের পিঠা বিক্রির পাশাপাশি সিদ্ধ ডিমের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ। শীতে লেয়ার মুরগির ডিমের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছে দেশি হাঁস-মুরগির ডিমের স্বাদ বেশি। উপজেলা সদর, সাচনা বাজার, হারুন মার্কেট, মন্নানঘাট বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজার ছাড়াও রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে সিদ্ধ ডিম। এদিকে বাড়তি আয়ের আশায় এই পেশায় যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থী, যুবক, বৃদ্ধসহ অনেকেই। 

 


জানা যায়, লেয়ার মুরগির ডিম স্থানীয় ফার্ম কিংবা বাজার থেকে ক্রয় করেন প্রতি হালি ৫০ টাকা করে, বিক্রি করেন ৮০ টাকা হালি। এতে প্রতি ১ হালি ডিমে লাভ হচ্ছে ৩০ টাকা। অপরদিকে দেশিও হাঁসের ডিম ৬০ টাকা দরে ফার্ম থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো সিদ্ধ করে বিক্রয় করছে ১০০ টাকা হালি। এতে লাভ হচ্ছে প্রতি হালিতে ৪০ টাকা। ডিম বিক্রেতাদের মাঝে অনেকেই শিক্ষার্থী, দিনমজুর, বৃদ্ধ ও বেকার যুবক রয়েছে। শীতকালে বাড়তি আয়ের আশায় বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছে অর্ধ সহস্রাধিক মানুষ। 

 


উপজেলার সাচনা বাজারে ফেরিঘাটে সিদ্ধ ডিম বিক্রেতা ছাত্র রাহিম উদ্দিন বলেন, শীত শুরুর সাথে সাথে প্রতিদিন ফেরিঘাটে সিদ্ধ ডিম বিক্রি করি। শীতে ডিমের চাহিদা বেড়েছে, যার কারণে বিক্রিও ভাল হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হালি ডিম বিক্রি করতে পারি। এতে প্রায় ৬ শত থেকে ৭ শত টাকা লাভ হয়। 
জামালগঞ্জ বাজারে দক্ষিণ কামলাবাজ গ্রামের আসাদ উল্লাহ জানান, জামালগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ হালি ডিম বিক্রি করতে পারেন। হাঁসের ডিম সবাই পছন্দ করে, তবে বয়লার মুরগির ডিম কম চলে। আশেপাশের ফার্ম থেকে ৬০ টাকা হালি ডিম সংগ্রহ করে প্রতি পিস ২৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। সাথে ধনিয়াপাতা, লবণ, কাঁচামরিচ বেটে ডিমের মাঝখানে ফাঁক করে দেন, এতে করে বেশি লোক তার দোকানে ডিম খেতে আসে। 

 


সাচনা বাজারে ডিম বিক্রেতা বয়োবৃদ্ধ সামাদ মিয়া বলেন, হাড়িতে করে হেটে হেটে ডিম বিক্রি করি। শীতের কারণে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, ১০ বছর যাবৎ সিদ্ধ ডিম বিক্রি করছি। কয়েক বছর আগেও হাতেগোনা কিছু লোক ডিম বিক্রি করত। কিন্তু এখন শত শত লোক এই পেশায় চলে এসেছে। এরপরেও ডিম বিক্রয় কম হয় না। আগের চেয়ে ডিম বিক্রয় বেড়েছে। 

 


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুল বাতেন বলেন, শীত এলেই অনেকে সিদ্ধ ডিম খেয়ে থাকেন। সিদ্ধ ডিমের মাঝে নানা ধরনের উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। লেয়ার মুরগির ডিমের চেয়ে দেশি হাঁস-মুরগি ডিমে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। সিদ্ধ ডিম খেলে শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ হয়। তবে অনেকে বিট লবণ দিয়ে সিদ্ধ ডিম খেয়ে থাকেন। সেই বিট লবণ মুখরোচক হলেও শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। সেজন্য বিট লবণ পরিহার করা উচিত।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার