প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:৫১
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দশ কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় শিমুলবাক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান বলেছেন, ‘মাটি মেশানো বালু-পাথর দিয়ে কাজ হচ্ছে, এজন্য কাজ বন্ধের দাবি করেছি।’ অন্যদিকে, ‘ঠিকাদার এমএ ওয়াহেদ বলেছেন ইঙ্গিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমার লোকজনের কাছে কোটি টাকা দাবি করে কাজ বন্ধ রাখাসহ লোকজনকে মারধর করেছেন।’ রোববার রাতেই থানায় গিয়ে তারা মামলা করবেন বলে জানান তিনি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের গণিগঞ্জ তেহকিয়া-শিমুলবাক ইউনিয়নের শিমুলবাক গ্রাম পর্যন্ত ৯ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার ৫০ মিটার মাটি ও আরসিসি ঢালাই সড়কের কাজ করছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মমিনুল হক এন্ড এমএ ওয়াহেদ (জেভি)। চুক্তি অনুযায়ী এই সড়কের কাজ গেল মাসের ১৯ তারিখ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ করতে পারে নি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, পাথারিয়া ইউনিয়নের তেহকিয়া গ্রামের অংশে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। সড়কের প্রটেকশন ওয়াল ও সিসি ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। মাটির কাজ বেশিরভাগেই শেষ।
তেহকিয়া গ্রামের হাসান মিয়া, সোহান মিয়া, আব্দুল আহাদ ও সোহেল আহমদ জানান, এই ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাটি ও অবহেলিত, আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিচ্ছি। এমনিতেই কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এখন চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্বে কাজ পেছানোর শঙ্কা আরও বেড়েছে।
ঠিকাদার এমএ ওয়াহেদ বললেন, সপ্তাহ খানেক আগে চেয়ারম্যান সড়কের কাজে থাকা শ্রমিক কর্মচারীদের গিয়ে ধমকানো শুরু করেন। তিনি (চেয়ারম্যান) বলেন, ‘দেড় কোটি টাকা খরচ করে প্রকল্প করিয়েছি, অথচ সড়কে কাজ শুরু করেছে আমাকে জিজ্ঞেসও করে নি। তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে বলে এসছেন, তার সঙ্গে বসার আগে কাজ করা যাবে না। ওইদিক থেকে ফেরার পথে শ্রমিকরা কাজ করছে দেখে তিনি আবার এসে ধমক শুরু করেন। শ্রমিকরা তাকে (চেয়ারম্যান) বলে, তারা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছেন। কাজ বন্ধ করতে হলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস নির্দেশ দিতে হবে। এরপর কোদাল-বেলচা দিয়ে তাদেরকে মারতে তেড়ে আসেন। এ বিষয়ে মামলা করার জন্য আমাদের লোকজন থানার ওসিকে না পেয়ে দুইদিন আগে ফিরে আসেন। আজ (রোববার রাতে) আবার থানায় মামলা করতে যাব আমরা।
ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন বললেন,‘এলাকায় গিয়ে দেখলাম সড়কে নিম্নমানের কাজ হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) ফোন দিয়ে অবস্থা জানাই। ওইদিন শুক্রবার ছিল। প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানাতে বলেন, শেষে আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালে, তিনি (উপজেলা প্রকৌশলী) জানালেন- শুক্রবার বন্ধের দিন কেন ঢালাই দিচ্ছে, তাকে কেউ জানায়ও নি। পরে তিনি কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিছু সময় পর এই পথ দিয়ে ফেরার সময় আবার কাজ শুরু করেছে দেখে, তিনি আরেকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে ফোন দিয়ে কাজ বন্ধ করান। চেয়ারম্যান দাবি করলেন, আজ সোমবার তেহকিয়া গ্রামে সভা ডাকা হয়েছে। তিনি স্থানীয় লোকজনকে বলে দেবেন, কাজ যাতে নিম্নমানের না হয়, সকলকে খেয়াল রাখতেও বলবেন তিনি।
উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বললেন, ওই প্রকল্পের কাজ কার্যাদেশ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গুণগতমান বজায় রেখে কাজ করা হয়। চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান বেশ কয়েকবার কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছেন। আমরা সেখানে গিয়ে কাজে কোন অনিয়ম পাই নি, পরে কাজ শুরু করতে বলি। তিনি কাজ চালু করার কারণে আমাকেও নানা কথা বলে গেছেন। ঠিকাদারের লোকজন আমাকে জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান শাহিন তাদের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। ঠিকাদারের লোকজন এজন্য থানায় গিয়েছিলেন। অসুস্থ্য থাকায় এরপরের খবর আর জানা নেই আমার।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন জানালেন, শান্তিগঞ্জের পাথারিয়া ও শিমুলবাক ইউনিয়নের সড়কের কাজে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান সমস্যা করছেন বলে উপজেলা প্রকৌশলী তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দেখার জন্য বলেছেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন