প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪০
মাটিয়ান হাওরে বোরো জমি রোপণে স্লুইস গেইট বন্ধ রাখার দাবি কৃষকদের
‘হাওরে যদি ফসল না হয়, তাহলে ফসল রক্ষা বাঁধ দিয়ে কি হবে?’ কথাগুলো বলছিলেন মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, ‘হাওরের পানি দ্রুত সরে গেলে তারা তাড়াতাড়ি বাঁধের কাজ শুরু করতে পারবেন।
এদিকে হাওপাড়ের কৃষকরা বলছেন, ধানের চারার বয়স মাত্র ২০ দিন হয়েছে। চারার বয়স কমপক্ষে ৪০ দিন হলে জমিতে রোপণের উপযুক্ত সময় হয়। মাটিয়ান হাওরের স্লুইস গেইট প্রতি বছর হাওরের জমি রোপণের স্বার্থে ধানের চারা রোপণ উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত ১০/১২দিন বন্ধ রাখা হয়। এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় হাওর কমিটির পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকায় এখন পর্যন্ত স্লুইস গেইট লাগানো সম্ভব হ নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ করবেন, এজন্য দ্রুত পানি সরলে তাদের জন্য ভাল।
মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক বড়দল গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুছিহুর রহমান মিলন বলেন, জমিই যদি রোপণ না করতে পারি, তাহলে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ দিয়ে কি হবে, কার স্বার্থে হাওরে বাঁধ দেয়া হবে?
তিনি আরও বলেন, হাওরে পানি সেচের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ধানের চারার বয়স এখনো একমাস হয় নি। এ অবস্থায় এখনই জরুরী ভিত্তিতে স্লইস গেইট বন্ধ করতে বিলম্ব করলে বোরো ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে।
বড়দল গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, হাওরের ফসল উৎপাদনের স্বার্থে কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা করে মাটিয়ান হাওরের স্লুইস গেটটি আগামী ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখার জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, হাওরের তিন মাস কৃষি অফিসের কাজ। কৃষি অফিসের মাঠ কর্মীদের বিগত গত এক বছরেও তিনি দেখেন নি হাওরে যেতে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, হাওরপাড়ের কৃষকদের স্বার্থে মাটিয়ান হাওরের স্লুইসগেটের ৪ টি গেইটের মধ্যে মধ্যে ২টি গেইট দ্রুততম সময়ের মধ্যেই লাগিয়ে দেয়া হবে। এমতাবস্থায় দুটি গেইট দিয়ে হাওরের পানি সরলে কৃষকদের আর কোন সমস্যা হবে না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন