প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৩
৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ
সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ ও নাম—বয়স পরিবর্তন করে জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইমন মিয়া (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ইমন মিয়া একই এলাকার বদিপুর গ্রামের মরছব আলীর ছেলে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ইমন মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও ২—৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর রাত ৮ টার দিকে বসত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইমন মিয়া ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক ওই স্কুলছাত্রীকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পান নি।
শিশুর পিতা বলেন, স্কুলে যাতায়াতের সময় ইমন মিয়া আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রাখে।
এদিকে অপরহরণের পর ১৭ ডিসেম্বর কুরবাননগর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কাজী তাজুল ইসলাম দেড় লাখ টাকা কাবিননামায় জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ভুয়া বয়স অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের জন্মনিবন্ধনে শিশুটির প্রকৃত নাম গোপন করে ‘আকলিমা আক্তার’ লেখা হয় এবং জন্ম তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে পরিবর্তন করে ১২ মে ২০০৬ দেখানো হয়।
কুরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল বরকত বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন তিনি। শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় বিস্তারিত দেখতে পারেন নি। রবিবার অফিসে গিয়ে ফাইল দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।
দায়িত্বরত কাজী তাজুল ইসলাম বললেন, কাবিন করতে আসলে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ৮ম শ্রেণি বা এসএসসি সার্টিফিকেট বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে যাচাই—বাছাই করা হয়। সঠিক থাকলে কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। এক্ষেত্রে মেয়েটির জন্মনিবন্ধনে বয়স ১৯ বছরের উপরে পাওয়া গেছে, এখানে আমার কোন ত্রুটি নেই।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলার কাগজপত্রের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর করা ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রত্যয়ণপত্র দেয়া আছে। এই ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজীসহ সংশ্লিষ্টরা দায়ী হবেন। অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন