শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারী কেউ দলের বাইরে নির্বাচন করবে না: কয়ছর

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:৪৭

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) নির্বাচনী এলাকায় অনেক সমস্যা আছে উল্লেখ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, রাস্তা- ঘাট এবং ব্রীজ- কালভার্টের খুবই প্রয়োজন। এছাড়াও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা ভালো নয়। 

 


তিনি বলেন, শান্তিগঞ্জ এবং জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের অর্ধেক শিক্ষক নেই। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হলে প্রথমেই শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রতিটি উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করেছিলেন।  সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা ৩১ শয্যা হাসপাতালকে ৫১ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন।
সম্প্রতি কেএস ব্রিকস ও মোবারক ফ্যাশনের সহযোগিতায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’র বিশেষ আয়োজন ‘চল যাই ভোটে’ এর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 


আমরা হাওর-ভাটির মানুষ, এখানকার ৯০% মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওরে টেকসই বাঁধ নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, প্রত্যেক বছর হাওরে সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়।  

 


আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আপনাকে কেন ভোট দিবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন ভাবে আন্দোলন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। তারা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। যে দল বাংলাদেশের কথা বলে, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের কথা বলে- সেই দলকে অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষ, শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুরের মানুষ ভোট দেবে। বিএনপি উন্নয়নের কথা বলে, অধিকারের কথা বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই দেশে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে।  

 


তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন- রডের বদলে বাঁশ দিয়েও উন্নয়ন করা হয়েছে। এগুলো উন্নয়ন নয়, এগুলো কসমেটিকস উন্নয়ন। বিএনপি সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, সবই  রিয়েল উন্নয়ন হয়েছে এবং নারীদেরকে সবসময় বিএনপি সরকার প্রায়োরিটি দিয়েছে। যুবকদেরকে প্রায়োরিটি দিয়েছে। মা ও শিশুদেরকে বিএনপি অগ্রাধিকার দিয়েছে। 


তিনি বলেন, বাংলাদেশের চার কোটি পরিবার আছে। এই চার কোটি ফ্যামিলির মধ্যে গ্রামের ৫০ লক্ষ ফ্যামিলিকে প্রথম পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।  ফ্যামিলির মধ্যে সিনিয়র হিসেবে মা- খালা যারা থাকবে তাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 


সুনামগঞ্জ -৩ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির একজন পরিচিত মুখ মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তিনি থাকলে আপনার জয়ের পথে বাধা সৃষ্টি হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ -৩ নির্বাচনী এলাকায় একজন নয়, আরও কয়েকজন নমিনেশন চেয়েছিলেন। দল সবসময় একজনকে মনোনীত করে। আমি মনে করি, এটা ভালো  প্রতিযোগিতা। একটি দলের মধ্যে একজন, দুইজন, চারজন, পাঁচজন নমিনেশন চাইতেই পারেন, চাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দল আমাকে মনোনীত করেছে। এখন অন্য কেউ ব্যক্তিগতভাবে এমপি ইলেকশন করতে চায়, করতে পারেন। তবে আমি মনে করি শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারী যে হবে, সে কখনও দলের বাইরে গিয়ে ইলেকশন করবে না। 

 


তিনি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর অনেক নির্যাতনের মধ্যে ছিলাম, তারপরও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ছেড়ে যাই নি। আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে কাজ করছি। সেজন্য আমি বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারী, আদর্শের সৈনিক হিসেবে দলের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করবে না।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার