প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:২২
হাওরবেষ্টিত তাহিরপুরে বোরো ধানের চারা কুড়ানোর আনন্দে শীতের ছুটি কাটছে শিশুদের। প্রতিবছর বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় শীতের ছুটি। এ সময় হাওরপারের শিশুরা আনন্দ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বোরো ধানের হালিচারা কুড়ায় জমিতে।
প্রতি বছরই শীতের আমেজ মেখে বোরো ধান রোপণের মৌসুম আসে। এ সময় সেখানকার বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ছুটির আনন্দে মাতে শিশুরা। এই প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিবারের নানা কাজে অংশ নিয়ে ছুটি উপভোগ করে। এরমধ্যে তাদের সবচেয়ে আনন্দের উপলক্ষটি আসে জমি থেকে বোরো ধানের হালিচারা কুড়ানোর সময়। পরিবারের সদস্যরা এ সময় শিশুদের পরিবারের কাজে অনুপ্রাণিত করতে বড়রা চারা কুড়ানোর কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে হাত খরচের টাকা দেন।
শীতের প্রথম দিক থেকেই হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের চারা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। চলে মৌসুমের মাঝামাঝি পর্যন্ত। শনিবার সকালে শনির হাওরপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, জমিতে বোর ধানের হালিচারা কুড়াতে ব্যস্ত অনেক শিশু। পরিবারের সঙ্গে এই কাজ করে তারা দারুণ আনন্দ পায়।
তাহিরপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী থেকে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থী সুপ্ত চন্দ্র সেন, দিব্য চন্দ, তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র মো. সাঈফসহ অন্যরা জানায়, বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। শীতের শুরুতেই প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষা শেষে লম্বা ছুটি পায় তারা। এ সময় পরিবারের নানা কাজে বাবা-মায়ের সহযোগী হয় তারা। শিশির ভেজা সকালে বিস্তীর্ণ ধানের জমিতে বোরোর হালিচারা কুড়াতে তাদের দারুণ ভালো লাগে। অনেক শিশু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একযোগে মাঠে কাজ করে এ সময়। তাদের কাজের বিনিময়ে মা-বাবার কাছ থেকে শখের পারিশ্রমিক পায় তারা।
এই শিশুরা জানায়, আনন্দ নিয়ে প্রতিবছর এ সময় তারা চারা কুড়ানোর কাজ করে। তাদের জন্য বাবা-মা কতটা কষ্ট করেন, ফসলের মাঠে কাজ করে তা বুঝতে পারে তারা।
শিশুরা জানায়, এবার হালিচারার জমি উঁচু না হওয়ায় চারা কুড়াতে বেশ কষ্ট হয়েছে, তবে তারা সেটা উপভোগ করেছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো থেকে অনেক শিশু সেই কাজ করে সংসারের জন্য বাড়তি আয়ের আশায়। এমন অনেক শিশু অন্যের জমিতে ধানের চারা কুড়ানোর কাজ করে আয় করে। প্রতি আঁটির জন্য তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয় ৫ টাকা করে। প্রতিদিন এই শিশুরা কেউ ৪০, কেউ ৩০ আবার কেউ ৫০ টির মতো করে চারার আঁটি সংগ্রহ করতে পারে। এতে প্রতিদিন তারা ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে আয় করতে পারে।
শনির হাওরপারের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের প্রান্তি কৃষক লগুছ মিয়া জানান, বোরো মৌসুমে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি যা করতে পারেন, অনেক ক্ষেত্রে শিশুরাও তা করতে পারে। তারা আনন্দ নিয়ে এই কাজটি করে। এতে পরিবারের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া আরও ভালো হয়। পাশাপাশি কৃষি কাজের প্রাথমিক দীক্ষাটা মাঠেই পায় এই শিশুরা।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন