সুনামগঞ্জ-৩

জোট নিয়ে ভোটের হিসাব

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২৩:২৪

সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনে ভোট নিয়ে জটিল সমীকরণে পড়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট। আট দলীয় জোটের সাথে নতুন করে আরো ৪টি রাজনৈতিক দল যুক্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এলডিপি, এবি পার্টি, এনসিপি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এখনো নিবন্ধন না পাওয়ায় খুব একটা আলোচনায় উঠে আসতে পারে নি। এদিকে, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিতে নতুন করে যোগ দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (ওয়াক্কাস গ্রুপ) সাবেক কেন্দ্রিয় প্রচার সম্পাদক সৈয়দ তালহা আলম। তালহা আলম দীর্ঘদিন ধরেই সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এবি পার্টিতে যোগদান, এবি পার্টির জোটে যাওয়ার ঘটনায় এই আসনে  নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের মাঠে এখন জোটের নতুন সমীকরণ দেখা দিয়েছে। কে পাবেন এই আসনে জোটের মনোনয়ন তা নিয়েই মূলত আলোচনা তুঙ্গে আসনটিতে। কিছুদিনে আগেও জোটের হিসেব ছিলো বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর এড. মাও. শাহীনুর পাশা চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এড. ইয়াসীন খানকে ঘিরে। নতুন জোটে তালহা আলম যুক্ত হতে না হতেই খুব জোরালোভাবে নাম শুনা যাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফিজ শেখ মোস্তাক আহমেদ  খেলাফত মজলিস মনোনীত এমপি প্রার্থীর নাম।


জোটে যুক্ত কয়েকজন রাজনীতিক জানিয়েছেন, হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদের নাম-ই জোটের আলোচনায় বেশি। 

 


সৈয়দ তালহা আলম বললেন, এড. শাহীনুর পাশা চৌধুরী একজন বিতর্কিত মানুষ। তিনি জুলাই আদর্শ বিরোধী। তাকে জোটের মনোনয়ন দিলে বৃহত্তর সিলেটসহ সারা দেশে ইমেজ সংকটে পড়বে জোট। প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে কাজও করা যাবে না। তাকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার চেয়ে আসনটি উন্মুক্ত রাখাই শ্রেয় হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা জনগনের কাছে যাচ্ছি । সব সেক্টরে আমাদের একটি গ্রহণযোগ্যতা আছে। আমরা এর দাবিদার। যদি আমরা মনোনয়ন না পাই, তাহলে বাকী সিদ্ধান্ত আমার আসনের জনগণই নেবে। দলের প্রতি আমার আস্থা আছে। দল আমার অতীত দেখে একটি ভালো সিদ্ধান্তে যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।
এড. ইয়াসীন খান বলেন, শাহীনুর পাশা বর্তমানে ইমেজ সংকটে আছেন। তিনি ইদানিং মিথ্যাচার করছেন। শেখ হাসিনার সাজানো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তার অতীত ইতিহাস ভালো নয়। তিনি খুব বিতর্কিত একজন মানুষ। মানুষ তার নাম শুনলে বাজে রিএ্যাক্ট দিচ্ছেন। তাকে যদি জোটের প্রার্থী করা হয় তাহলে তার জন্য কাজ করা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। এ আসনে  এতোদিনে দাঁড়িপাল্লা একটি ভালো অবস্থান নিয়েছে। যদি আমাদেরকে প্রার্থী করা হয় আমরা এ আসনে জয় লাভে আশাবাদী। জোটের লাভ হবে। আসনটি পাবে। কোনো বিতর্কিত ব্যাক্তিকে প্রার্থী করলে ইমেজ সংকটে পড়বে জোট।

 


শাহীনুর পাশা চৌধুরী বলেন, একটি ঘটনায় আমি অনুতপ্ত হয়েছি, ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। আমাকে সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেছেন। কাজ করে যাচ্ছি। যে নির্বাচন নিয়ে কথা উঠেছে আমি এর ৪৫ দিনের মাথায় সবার সাথে দেখা করে কথা বলে সব ঠিক করেছি। ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠেছি। এখন দল বলেছে নমিনেশন নিতে, নিয়েছি। দলের নির্দেশনায় কাজ করছি। দল আমার নির্বাচন অভিজ্ঞতার কথা, ভোটার ও কর্মীদের কথা ভেবে আমার প্রতি সুবিচার করবে বলে আমার বিশ্বাস। আমার বিশ্বাস আমি নির্বাচনে অংশ নিলে পাশ করবো। জনগণ আমাকে গ্রহণ করবে।

 


হাফিজ শেখ মুশতাক আহমদ বলেন, আমি প্রায় নিশ্চিত যে আমিই জোটের প্রার্থী হবো। এখানে যদি, কিন্তু নেই। আমার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। একটু অপেক্ষা করেন ঘোষণা আসবে। নির্বাচন ও এলাকায় আপনি নতুন, কীভাবে সবকিছু গুছিয়ে আনবেন? এমন প্রশ্নে মুশতাক বলেন, আমার সম্পর্কে এটি আপনাদের ভুল ধারণা। আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করি। আপানারা হয়তো খবর রাখেননি তাই আমাকে নতুন লাগছে। বিতর্কিত মানুষকে মিডিয়া বেশি কাভার দেয়। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রচার বিমুখ মানুষ। প্রতিটি এলাকায় আমার মানুষ আছে। আমি শতভাগ আশাবাদী যে, আমি জোট থেকে মনোনীত হলে পাশ করবো। কারণ কওমী, ফুলতলী ঘরাণার আলেমদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার