প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:৫৩
হত্যা মামলার আসামী ও স্বজনরা পলাতক
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের ২ পক্ষের সংঘর্ষের ১ জন নিহতের ঘটনায় মামলার আসামী থাকায় ৩ বছর ধরে অনাবাদি ২০ একর জমি। হ্যাচারীর মাছ লুট করে নিয়েছে প্রতিপক্ষ।
জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলার ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হন। পবর্তীতে সংঘর্ষে জড়িত না থাকা স্বত্ত্বেও মামলার আসামী করা হয় গ্রামের মৃত. রজন আলীর ছেলে হারুন রশীদকে। মামলার পরেই লুট করা হয় তার বিশাল হ্যাচারীর মাছসহ ঘরবাড়ি। এরপর থেকেই তিনি সহ তাঁর আত্মীয় স্বজন পলাতক। পরিত্যাক্ত রয়েছে ২০ একর ফসলি জমি। পরে জামিনে এলাকায় আসলেও নিজ সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘোড়াডুম্বুর মৌজার জেএল নং ৮৮, খতিয়ান নং ৩৯২, ৪১০ এ মোট ২০ একর ফসলি জমি অনাবাদি রয়েছে। পরিত্যাক্ত প্রায় বসতবাড়ি ও মাছের হ্যাচারী। এসময় এলাকাবাসী জানান, হত্যা মামলার পর থেকেই হারুন রশীদের লোকজন এলাকা ছাড়া, তাই পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে ফসলি জমি ও মাছের হ্যাচারী।
হারুন রশীদের ভাই আব্দুর রশীদ জানান, আমাদের গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমার বাবা এই মৌজায় ২০ একর জমি ক্রয় করেছিলেন। আমরা তাদের (প্রতিপক্ষ) মারপিট ও গ্রাম্য কোন্দলের বাইরে থাকার পরও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ভাবে আমার বড় ভাইকে হত্যা মামলার আসামী করেছে প্রতিপক্ষ। শুধু মাত্র আমাদের সম্পত্তির লোভে তারা এই কাজ করেছে। আমরা আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না। আমরা চাষাবাদ করতে চাইলেই গ্রামের আকিক মেম্বার ও তার অনুসারীরা বাধা দেন। ঘটনার পরেই আমাদের হ্যাচারীর মাছ ও বাড়িঘর লুট করেন তারা। এখন আমার ভাই জামিনে আছেন। কিন্তু আকিক মেম্বারের কারণে আমার ভাই ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আসতে পারছেন না। তারা বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।
গ্রামের মুরব্বি আব্দুল গফুর জানান, মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হারুন রশীদকে জড়ানো হয়েছে। মূলত তার সম্পদগুলো হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই প্রতিপক্ষ আকিক মিয়া এই কাজ করেছেন। আমাদের দাবি নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করতে ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
প্রতিপক্ষ আকিক মিয়া জানান, আমরা তার জমি চাষাবাদ করতে কোন দিনই আপত্তি দেইনি। বরং হারুন রশীদ হত্যা মামলায় জড়িত থাকায় এই গ্রামে আসতে পারেনি, সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তার (হারুন রশীদ) কোন সম্পদ লুট করেনি কেউ। তার জমি সে চাষাবাদ করবে এতে আমরা বাধা দেব কেন? শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মহোদয় আমাদের ডেকেছিলেন। আমরা গ্রামবাসী বলে এসেছি, কেউ জমি চাষাবাদ করলে আমাদের কোন আপত্তি নাই।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ অলি উল্লাহ জানান, এই বিষয়ে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা উভয়পক্ষের লোকজনকে ডেকেছি। হারুন রশীদ তার জমি চাষাবাদ করতে চাইলে কেউ আপত্তি করবে না বলে জানিয়েছেন তারা। আমরা তাদেরকে বলেছি, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোন ধরণের অরাজকতা আমরা সহ্য করবো না।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন