সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করব: শহীদুল ইসলাম পলাশী

প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৫২

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা)  আসনের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শহীদুল ইসলাম পলাশী বলেছেন, পুরো  সুনামগঞ্জ জেলাটাই  অবহেলিত এবং অনুন্নত।  বিশেষ করে সুনামগঞ্জ -৪ (সদর, পৌরসভা ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা)  অনেক ক্ষেত্রে  অনুন্নত এবং অবহেলিত। সুনামগঞ্জ পৌর শহরে জলাবদ্ধতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। অনেক  জায়গায় আবর্জনা জমে থাকে। ময়লা আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ হয় এবং চারদিকে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। ইনশাআল্লাহ আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

 


সম্প্রতি কেএস ব্রিকস ও মোবারক ফ্যাশনের সহযোগিতায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘চল যাই ভোটে’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  তিনি বলেন, বিশ্বম্ভরপুর এবং সদর উপজেলায় কিছু হাওরাঞ্চল রয়েছে। এই হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বারবার বঞ্চিত হচ্ছে। হাওরাঞ্চলে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়, সেই বাঁধগুলোতে অনিয়ম দুর্নীতির কারণে  ফসল নষ্ট হয়।  আমাদের কৃষকদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখব এবং ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধে আমি লক্ষ্য রাখব। আমাদের সুনামগঞ্জ সদর এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই সমস্যা।  এই এলাকায় ব্রীজ- কালভার্ট এবং রাস্তা- ঘাটের দুর্বলতা রয়েছে।  বিশেষ করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রাস্তা - ঘাটের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপজেলার পলাশ বাজার  ( চৌরাস্তা )  হতে  মুজিব বাজার পর্যন্ত সড়কপথ খুবই অনুন্নত। প্রতিনিয়তই এই সড়কপথে অটোরিকশা, মোটর সাইকেল সহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটে।  এই এলাকায় ২০-৩০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কপথে  যাওয়া- আসা  করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।  পলাশ বাজার থেকে ধনপুর- চিনাকান্দি রাস্তা যেন জনসাধারণের একটা মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রাস্তায়ও দুর্ঘটনা ঘটছে। আমাদের ফতেহপুর ইউনিয়নবাসী রাস্তার জন্য খুবই কষ্টে আছেন। যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওই এলাকার মানুষ কষ্ট করে থাকে। সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নবাসী যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে আছেন।  এই ইউনিয়নকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মাঝখানে একটা নদী রয়েছে।  এই ইউনিয়নের মানুষ জয়নগর বাজারে নৌকায় যাওয়া - আসা করে থাকে। জয়নগর বাজার এলাকায় খেয়াঘাটের কাছাকাছি একটা সেতু দরকার। আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত  সেতুটি নির্মাণ করে দেব ইনশাআল্লাহ।  

 


সদর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের জনসাধারণ খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হালুয়াঘাট - ধারারগাও বরাবর একটি সেতু।  এছাড়াও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রামপুর এবং সদর উপজেলার বালাকান্দা এরিয়ায় চলতি নদীতে একটি সেতু দরকার।  আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।  

 


চিকিৎসা সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে চিকিৎসা সেবায় যথেষ্ট ঘাটতি আছে, দূর্বলতা রয়েছে।  প্রায় হাসপাতালেই অনেক যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু, সাধারণ মানুষ এই যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা - নীরিক্ষা করতে পারেন না। তারা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই চড়া মূল্যে পরীক্ষা করতে হয়। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে যথেষ্ট অনিয়ম দূর্নীতি হয়।  হাসপাতালে ওষুধ থাকলেও মানুষ পায় না। কিছুদিন আগেও আমরা দেখেছি ওই হাসপাতালে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগেও এমনটা হয়েছে হয়তো।  আমরা এদিকে সর্বোচ্চ নজর দেব।

 


শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শিক্ষার হার ৩৪%। এই অবস্থা থাকার কথা নয়। আমি নির্বাচিত হলে এই শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করব ইনশাআল্লাহ।  


তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলব। ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান সহ সকলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করব।

 


জোটের মনোনয়ন না পেলে এবং অন্য কাউকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হলে আপনি এই ক্ষেত্রে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে কি না - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা ৫ আগষ্টের পর থেকে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে চেষ্টা করছি। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান চরমোনাইর পীর মুফতি ফয়জুল করিম সর্বপ্রথম ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করে আসছেন। সেই সুবাদে আমরা প্রথমে ৮ দল জোট হয়ে, সারা দেশের বিভাগ এবং জেলায় জেলায় সমাবেশ করেছি। এইভাবেই মানুষকে ৮ দলের দিকে আনতে চেষ্টা করেছি। এই ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন সহ ৮ দলের নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইতোমধ্যে আরও দু'টি দল আমাদের ৮ দলীয় জোটের সাথে যোগ হয়েছে।  একটি এনসিপি এবং অপরটি হচ্ছে এলডিপি।  সুনামগঞ্জ -৪ আসনে জোটের মনোনয়ন আমাকে দিবে, আমি আশাবাদী।  কারণ, আমি এই জেলায় ২০০৯ সাল থেকেই ছাত্র আন্দোলন, যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি এবং বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
আমি বিগত ১৬ টি বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, রাজপথে আন্দোলন করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের অত্যাচার,জুলুম মোকাবিলা করে মাঠে আছি। এইজন্য আমি আশাবাদী সমঝোতার ভিত্তিতে হলেও মনোনয়ন পাব। 

 


এরপরও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে যদি আমি মনোনয়ন না পাই, অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলেও আমরা তার পক্ষেই কাজ করব ইনশাআল্লাহ।  
সুনামগঞ্জ -৪ আসনে বিএনপির একজন শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।  এই ক্ষেত্রে যদি জোট আপনাকে মনোনয়ন দেয়,তাহলে জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদিও বিএনপির একজন শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। তিনিও কোনদিন এমপি নির্বাচন করে নাই, আমিও এমপি নির্বাচন করি নাই।  সেই হিসেবে তিনি যেইরকম শক্তিশালী, আমিও এইরকম শক্তিশালী। তিনি যেইরকম একটি দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন,  আমিও একটি দলের সভাপতি। 


তিনি যেরকম শক্তিশালী, আমিও সেই রকম শক্তিশালী।  আমি আশাবাদী তৃণমূলের জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবে ।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার