প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৩২
শান্তিগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের অনাবাদী ২০ একর বোর জমিতে পানি সেচ করতে গেলে একই গ্রামের প্রতিপক্ষের দ্বারা হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় ৬ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। এ ঘটনায় ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের মৃত উমর আলীর ছেলে আব্দুল গফুর বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকালে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৩ ইং সালে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধ সহ মামলা মোকদ্দমার জের ধরে প্রতিপক্ষ আকিকুর রহমান আকিকের পক্ষের এক ব্যক্তি খুন হন। খুনের ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের অভিযোগাকারীর পক্ষের অধিকাংশ নির্দোষ লোকজনদেরকে মামলায় অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দেয়। পাশাপাশি হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন অভিযোগকারী আব্দুল গফুর সহ তাদের লোকজনদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করতে থাকে। এমনকি প্রতিক্ষের লোকজন অভিযোগকারী সহ তাদের বসত বাড়িতে লুটপাট, মাছের হ্যাচারীতে মাছ লুটপাট করে নেয় এবং অভিযোগকারী সহ তাদের লোকজনদের জায়গা জমি জোর করে দখলের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের বাধায় ও হুমকির কারণে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের রজন আলীর ছেলে হারুন রশীদের প্রায় ২০ একর বোর জমি গত ৩ বছর ধরে অনাবাদী পড়ে থাকে। বর্তমানে পূর্বের মামলা মোকদ্দমা ও হত্যা মামলায় অভিযোগকারী সহ তাদের লোকজন আদালত থেকে জামিনে এসে সম্প্রতি হারুন রশীদ ও তার লোকজন জমি চাষাবাদ করার প্রস্তুতি নিলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা দিতে থাকে।
গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদিন অভিযোগকারী আব্দুল গফুর, হারুন রশীদ সহ তাদের লোকজন পানির পাম্প বসিয়ে জমিতে পানি সেচ কাজ শুরু করে। এসময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় প্রতিপক্ষের আকিকুর রহমান, আব্দুল খালিক, আলী, আতিকুর রহমান, আবুল বশর, শাওন ও রেজু মিয়া সহ এজাহার নামীয় ২৫ জন ও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অভিযোগকারী আব্দুল গফুর সহ তার সঙ্গীয় ফজুল মিয়া, আব্দুল মানিকদেরকে মারপিট করে আহত করে। পরে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের লোকজন পানির পাম্প ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে অভিযোগকারীর স্ত্রী সিরিয়া বেগম সহ তাহার সঙ্গীয় আসিকা বেগম, মিনারা বেগম ও আবুল লেইছগণ বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদেরকেও মারপিট করে আহত করে। পরে পানির পাম্প ও ঠেলা গাড়ি অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের লোকজন নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আকিকুর রহমান আকিক বলেন, গ্রামবাসীর সাথে কোন মারপিট হয় নি, হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
শান্তিগঞ্জ থানার অভিযোগ তদন্তকারী অফিসার এস আই মো. সেলিম মিয়া জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের মতামত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্লাহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তকারী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন