প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০৮
তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল
দলের সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে চূড়ান্ত উল্লেখ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল বলেছেন, প্রথম পর্যায়ে যখন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়, তখন দিরাই-শাল্লার আসনটি স্থগিত রেখেছিল দল। দ্বিতীয় পর্যায়ে দিরাই-শাল্লা আসনে নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমরা তৃণমূলে যারা রাজনীতি করছি, দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেই। কিন্তু আমাদের মধ্যে দুঃখ থাকে, কারণ, আমরা দীর্ঘ সতেরোটি বছর মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছি। এমন কোনো আন্দোলন সংগ্রাম নেই যে করিনি। দলকে সংঘটিত করেছি তৃণমূল পর্যায় থেকে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা- খরা, মহামারী সহ প্রতিটি সমস্যায় মানুষের পাশে থেকেছি। দলের কর্মীর জন্য আমরা কাজ করি, দল যখনই কোন সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। দল লাস্ট মুহূর্তে, মনোনয়ন জমাদানের একদিন আগে আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। আমি মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি। দেখা যাক দল কি সিদ্ধান্ত নেয়। দিরাই - শাল্লা হচ্ছে দুর্গম এলাকা। আমি শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই, আমার চাচা নাসির উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত অসুস্থ। একে তো তিনি বয়স্ক মানুষ, তাছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত, আরও বিভিন্ন ধরনের শারিরীক সমস্যায় আছেন। এই সমস্যার মধ্যে দল প্রথমে উনাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তারপর আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন,দেখা যাক দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি নেয়। আমার বিশ্বাস দল আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দিবে।
সম্প্রতি কেএস ব্রিকস ও মোবারক ফ্যাশনের সহযোগিতায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর বিশেষ আয়োজন ‘চল যাই ভোটে’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল।
প্রতীক বরাদ্দের দিন দল যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিবে, আপনি তখন সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন কি না - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই সিদ্ধান্ত দেবে। আমি ছাত্রজীবন থেকেই এই দলের সাথে সম্পৃক্ত। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই পর্যায় এসেছি। আমার পিতা মরহুম আব্দুশ শহীদ চৌধুরী দিরাই-শাল্লা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। এই দলের বিরুদ্ধে আমরা কখনও যাইনি, ভবিষ্যতে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে, কিন্তু,দল যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তখন আমরা সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।
সাধারণ মানুষ কেন আপনাকে ভোট দিবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এবং আমার পরিবার, স্বাধীনতার পূর্ব থেকে এখন পর্যন্ত দিরাই - শাল্লা মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দিরাই - শাল্লার জনগণ খুবই বিশ্বাস করে, এই পরিবারের কাছে কখনও কষ্ট পাবে না। অতীতেও পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। এজন্য এই পরিবারকে মানুষ ভোট দেবে। আরেকটি কথা হলো, এইবার যে দিরাই-শাল্লার নির্বাচন, সেটি হচ্ছে, স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষের নির্বাচন। দিরাই-শাল্লার ৯৫% মানুষ স্বাধীনতার পক্ষের। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধের সন্তান হিসেবে বিশ্বাস করি, দিরাই - শাল্লার জনগণ আমাকেই ভোট দিবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন