প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৪
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩.৮ কি.মি ব্যয় ১৪৫ কোটি টাকা
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে ওয়েজখালী এলাকার হাসনরাজার তোড়ন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ- সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩.৮ কিলোমিটার ফোরলেনের কাজ ধীরে ধীওে দৃশ্যমান হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনজেবি। ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই সড়কের কাজ শুরু হয়। আগামী বছর অর্থাৎ, ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এতে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৪ কোটি ৮১ লক্ষ ২ হাজার ৯২০ টাকা।
জানা যায়, এ পর্যন্ত ভৌত ও ফিজিক্যাল অগ্রগতির ৩৫% কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। এরমধ্যে আব্দুজ জহুর সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের নীচের দুইপাশের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশ লাইন্সের সামনের সড়কপথের কাজ দৃশ্যমান হচ্ছে। এছাড়াও পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকায় সেখানেও কাজের দৃশ্যমান হচ্ছে এবং বাকি অংশগুলোতে গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, টেলিফোন লাইন ইত্যাদির কারণে কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যদি ইউটিলিটিসমূহ সরানো গেলে কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন হবে, অন্যথায় কাজটি সম্পন্ন করতে বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে জানান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি চারলেনে উন্নীত করে কে ওয়ান ব্লক দ্বারা ডিভাইডার, দুই পাশেই ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ অত্যাধুনিক লাইটিং ব্যবস্থা ও মানানসই বৃক্ষরোপণ করা হবে। এখন পর্যন্ত ভৌত এবং ফিজিক্যাল অগ্রগতির প্রায় ৩৫% কাজ দৃশ্যমান হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তারা আরও জানান, বন বিভাগ যদি যথাসময়ে সড়কের দুই পাশের গাছগুলো অপসারণ করে দেয় সড়ক প্রশস্ত করণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে।
বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আবুজাফর বলেছেন যে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে এবং রিপ্লাই এসেছে। সড়ক উন্নয়ন কাজের স্বার্থে ২০০৩ সালে সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন চলমান রয়েছে।
শহরের মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা শহীদুল হক সরকার জানান, সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের চার কিলোমিটার ফোরলেনে উন্নীত করায় আমরা আনন্দিত।
একই এলাকার শিক্ষার্থী মাহদী হাসান ইমু বলেন, আমাদেরকে কলেজে দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সড়কের খানাখন্দ এবং ধুলো-ময়লা সহ আবর্জনা জমে পচা দুর্গন্ধ বের হতো। প্রায়ই যানযট লেগে থাকতো, দুর্ঘটনা ঘটতো প্রায়ই। এই সড়কপথ আধুনিকায়ন এবং ফোরলেনে উন্নীত করায় দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে।
গাড়ি চালক বকুল মিয়া বলেন, সড়কটি চারলেন হলে দুর্ঘটনা কমবে। যানজটও হবে না। আমরাও স্বস্তিতে গাড়ি চালাতে পারব।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল হামিদ বলেন, আমাদের বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে হাসনরাজা তোরণ পর্যন্ত ৩.৮ কিলোমিটার রাস্তাকে ফোরলেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। কাজটি ২০২৫ এর জুলাই মাস থেকে শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ এর জুন এর মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি। সড়কটি চারলেনে উন্নীত করতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে ৩৫% কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কাজটি যথাসময়ে শেষ করতে হলে, সড়কের দুই পাশের বৃক্ষ ও সড়কের ইউটিলিটি সার্ভিসসমূহ অপসারণ সহ সড়কের অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত এবং আলফাত স্কয়ারে কিছু জায়গা একুয়ার করা দরকার। এসব জায়গা সময়মত পেলে যথাসময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, ফোরলেনের সড়ক করার পাশাপাশি দুই পাশে ফুটপাত, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ করা হবে। অর্থাৎ সড়কটিকে একটি ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে তৈরি করা হবে।
সড়কের পাশের ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ এবং সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এজন্য জরুরী ভিত্তিতে শহরের রাস্তা প্রশস্তকরণ জরুরি। সড়কটি চারলেন হওয়ার পর যানজট মুক্ত হবে শহর।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন