মাটিয়ান হাওর

এক টুকরি মাটিও পড়েনি আলমখালি ক্লোজারে

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৪৭

তাহিরপুর উপজেলার বৃহৎ বোর ফসলি ধানের হাওর মাটিয়ান হাওরের সবচেয়ে বড় ক্লোজার বাঁধে এক টুকরি মাটিও পড়েনি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পিআইসি কমিটি দেয়ার দরখাস্ত আহবান করলেও কোন কৃষক আবেদন করেননি। গুরুত্বপূর্ণ এ ফসল রক্ষা বাঁধে কাজ শুরু না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষকরা। 

 


জানা যায়, মাটিয়ান হাওরের বোয়ামারা ফ্লাড ফিউজ প্রকল্প ও আলমখালী ক্লোজার বাঁধটি (প্রতিরক্ষাসহ) ৩৫ কোটি টাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বিগত বছর টেন্ডার হয়। টেন্ডারে অংশগ্রহণ করে কাজ পায় সিলেটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল। বোয়ালমারা ফ্লাডফিউজ প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও আলমখালী ক্লোজার বাঁধে কোন মাটি পড়েনি। 


ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানাজার কামরুল হাসান বলেন, আলমখালী ক্লোজার বাঁধে কাজ করার জন্য তারা প্রকল্প এলাকার পাশে মাটি কিনেছিলেন। তাদের লোকজন কাজ করতে গেলে মাটি দিবে না বলে জানায়। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেন বলেন, বাঁধ এলাকার লোকজন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অসহযোগিতা করায় কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। হাওরের ফসল রক্ষায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করে হলেও বাঁধের কাজ শেষ করতে হবে।
বাঁধ এলাকার বাসিন্দা বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, শুরুতে আমরা আলমখালি ক্লোজার বাঁধের কাজটি করানোর জন্য উপজেলাতে যোগাযোগ করেছি, তখন তারা আমাদের জানিয়েছিল কাজটি ঠিকাদার দ্বারা করানো হবে। এখন পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন পিআইসি দিয়ে কাজ করাবেন। কিন্তু কাজের বরাদ্দ কত টাকা আছে তা তারা বলছেন না। 

 


তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আশপাশে কোন মাটি নেই। এমতাবস্থায় কাজের বরাদ্দে কত টাকা আছে এবং মাটির রেটের টাকা বাড়িয়ে দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজটি শেষ করা যাবে বলে তিনি জানান।


মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারন সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের আলমখালির ক্লোজার বাঁধটি অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও কাজটি ঠিকাদারে করবে নাকি পিআইসি দিয়ে করানো হবে এমন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

 


তিনি আরও জানান, আলমখালির পাশাপাশি আরো ৪টি ক্লোজার বড়দল মাঝের খাল, জামলাবাজ নদীর বাঁধ, ধরুন্দের পাশের বাঁধ, মুজারাইয়ের পাশের ক্লোজার বাঁধটিতে জরুরী ভিত্তিতে মাটির কাজ শুরু করা দরকার। তিনি বলেন, আজ ১৫ জানুয়ারি শীত বিদায়ের পথে। ২০ তারিখ থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত। আগাম বন্যার মারাত্মক হুমকিতে চলতি বছরের বোর ফসল।

 


শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুরাদ বলেন, উপজেলার শনির হাওর, হালির হাওর ও মহালিয়া হাওরের প্রকল্পগুলোতে পিআইসি কমিটিগুলো মাটি কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকল্প এলাকাতে এসকেভেটর মেশিন ও আনা শুরু হয়েছে। আগামী শুক্র শনিবার থেকে মাটি কাটার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও জানান, মাটির কাজ দ্রুত করতে গেলে প্রতিটি পিআইসি কমিটিকে প্রথম বিল দেয়া জরুরী বলেও তিনি জানান।

 


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজার বাঁধটিতে ঠিকাদারের একটি অংশ এবং পিআইসির একটি অংশ রয়েছে। পিআইসির অংশটিতে কাজ করানোর জন্য কোন আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার