৩ প্রার্থীতে টালমাটাল নির্বাচনী ঐক্য

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১১

প্রচারণায় গোছানো বিএনপি

নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় নেমেছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ ও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা। দলটির এই আসনের জ্যেষ্ঠ নেতারা কর্মীদের দিক নির্দেশনা দিয়ে পাঠাচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, নিজেরাও যাচ্ছেন ভোটারদের দোরগোড়ায়। প্রার্থী কয়ছর এম আহমদও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বৃহস্পতিবার সিলেটে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের জন সভাকে ঘিরে ব্যস্ততা থাকলেও শুক্রবার সারাদিন বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। করেছেন গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক। প্রচারণার শুরুরদিন থেকেই একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপের মাধ্যমে গোছালোকিং বাসুশৃঙ্খল প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, দ্বিধাহীন এমন প্রচারণায় শুভ সূচনা করেছেন কয়ছর। এরধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভালো ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে তার।

 


অপর দিকে, একক প্রার্থী দিতে না পারায় এই আসনেটাল মাটাল অবস্থায় পড়তে হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য বা জোটকে। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাড.ইয়াসীন খান ইতোমধ্যে তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও জোটের প্রার্থী হিসেবে এখনো মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল) ও খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী হাফেজ শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি)। নির্বাচনী ঐক্যের তিনজন প্রার্থী এখনো মাঠ পর্যায়ে থেকে যাওয়ায় জোটসমর্থিত ভোটাররাকাকে ভোট দিবেনতানিয়েরীতিমতোবিব্রতকরঅবস্থায়পড়েছেন। ভোগছেনসিদ্ধান্তহীনতায়।

 

কাকে ভোট দিবেন, জোট কেনো একক প্রার্থী দিতে পারলো না, জোটের প্রকৃত প্রার্থী আসলে কে? এমন প্রশ্নের ঘোরে চরম দ্বিধায় রয়েছেন বিএনপি বিরোধী নির্বাচনী ঐক্য বা জোটের সমর্থকেরা। জোটের একাধিক প্রার্থী থাকায় কোনো কোনো কর্মীরা আবার প্রকাশ্যে একক কোনো প্রার্থীকে সমর্থনও দিতে পারছেন না। এক রকম গুপ্ত সমর্থনের দিকেই হাঁটছেন অনেকেই। আবার ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে অ্যাড. শাহীনুর পাশার অংশ গ্রহণের কারণে জামায়াতে ইসলামী রঅনেক নেতা তাঁকে (শাহীনুর পাশা) সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছেনই না। শেখ মুশতাক রাজনীতির মাঠে খুব বেশি পরিচিতনা থাকার কারণে ঐক্যের সুবিধা এবিপার্টির তালহার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত করেছে ননির্বাচনী ঐক্যের দলগুলোর একাধিক নেতা। এখানে জামায়াতে ইসলামীর ভোটাররা অনেক বড়‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা নেতা কর্মীদের। ‘২৪ এর নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পাশা থেকে দূরে থাকা ও শেখ মুশতাকের অপরিচিতি’- এই দুইমিলে জোটের ভোটার কর্তৃক সৈয়দ তালহা আলমকে যেমন‘ফেভার’করার ইঙ্গিত পাওয়া, তেমনি এসব ভোটারদের একটিবড় অংশ বিএনপি কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকেও ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

 


এই আসনের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের দুই ও জয়কলস উজানীগাঁও গ্রামের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। বীরগাঁওয়ের মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ও হুসাইন আহমেদ মিশেলকে নিয়ে খুব একটা আলোচনা এখনো নির্বাচনী এলাকায় তৈরি হয়নি বলে অনেকে মতামত দিয়েছেন। তারা তেমন আলোচনায় না থাকলেও আঞ্চলিকতার ‘দোহাই’ দিয়ে কিছুটা আলোচনায় আছেন অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিষ্টার আনোয়ার হোসেন। তবে, সেই আলোচনাটাও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল ভেদে। উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন থেকে ধরে পূর্ববীরগাঁও, পূর্ব পাগলা ও দরগা পাশা হয়ে যতই জগন্নাথপুরের দিকে যাবেন এই আলোচনা ততই ক্ষীণ হয়ে আসে বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোটার।

 


আফাজ উদ্দিন ও আতিকুর রহমান তালহা আলমের দু’জন কর্মী জানিয়েছেন, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের বিশাল একটি অংশ সৈয়দ তালহা আলমের দিকে মোড় নিয়েছেন। শাহীনুর পাশা চৌধুরীর দিকে নয় কেনো এমন প্রশ্নে তারা জানান, সম্ভবত ২০২৪ সালের নির্বাচন ইস্যুতে তারা পাশা সাহেবের পক্ষে অবস্থান নিতে চাচ্ছেন না। অনেকে প্রকাশ্যে কাজ নাকরলেও গোপনে তালহা ভাইর জন্য কাজ করছেন।

 


শান্তিগঞ্জ জামায়াতের আমীর হাফেজ আবু খালেদ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় জোট এখনো অগোছালো। এই মুহুর্তে এটা কোনো ভাবে কাম্য নয়। বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যের আহ্বানই করছি। এখনো সময় আছে। একজন প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে আসেন। জামায়াত জোটকে সম্মান জানিয়ে ইতো মধ্যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন। আমরা দলীয় ভাবে কাউকে সমর্থন করি নি। কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে সমর্থন করে থাকেন এটা হতেও পারে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয় নি। এভাবে ছন্নছাড়া থাকলে জোটের পক্ষে ভালোফল আসবে না।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ও প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক রওশন খান সাগর বলেন, শুরু থেকেই বিএনপি একজন প্রার্থীকে নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে তিনি দুই উপজেলার বেশির ভাগ জায়গায় নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন করেছেন। যেসব জায়গায় এখনো যাননি সেসব জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে, শিডিউল মেন্টইন করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আশাকরছি সব জায়গাতেই আমরা ভালো ফলাফল অর্জন করবো।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার