প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৩
বাড়ির চারপাশে দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে সফল হয়েছে কৃষাণী মর্জিনা বেগম। তিনি জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি এক বিঘা জমিতে মরিচ, এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়শ, দুই বিঘা জমিতে বাদাম, দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ সহ দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করেছেন। লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। বাজারে লাউয়ের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় তিনি দুই মাসে ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন।
মর্জিনা বেগমের কম খরচ ও অল্প সময়ে এমন লাভ দেখে বিলকিস বেগম ও রুজিনা আক্তার সহ আরও অনেক কৃষাণী লাউ সহ সবজি চাষ করেছেন। একজন সফল সবজি চাষী হিসেবে মর্জিনা এলাকায় সবার নজরে পড়েছেন। এবার প্রায় ৩ মাসের মধ্যে লাউ চাষে অভাবনীয় লাভ পেয়ে খুশি মর্জিনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরে নতুন বাড়ির দুই পাশে মাচায় ঝুলছে লম্বা ও সবুজ রঙের লাউ। দেখলে যে কোন মানুষের চোখ জুড়িয়ে যায়।
মর্জিনা বেগম বলেন, প্রতিটি লাউ ২৫ থেকে ৩০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন। লাউ ক্ষেতে জৈব সারের সাথে সামান্য রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছেন। এছাড়া তেমন কোন কীটনাশক ব্যবহার করা হয় নি।
তিনি আরও জানান, বিষমুক্ত সবজি ক্ষেতে যেমন স্বাধ, তেমনি বাজারে রয়েছে চাহিদা।
মর্জিনা বেগমের স্বামী সাইদুল ইসলাম বলেন, জমির হালচাষ, বীজ বপন ও জৈব সারের কাজ আমি করে থাকি। সংসার সামলানোর পাশাপাশি লাউ সহ অন্যান্য ফসল চাষবাদ করে থাকে মর্জিনা। এবার বাজারে লাউয়ের দাম ভাল থাকায় গতবছরের চেয়ে লাভবান হয়েছি।
তিনি আরও জানান, সবজি উৎপাদনে আমাদের জন্য সরকারি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায় নি। তারা যদি সরকারিভাবে সার, বীজ সহ অন্যান্য সহযোগিতা করতো তাহলে আমাদের মতো চাষিদের সবজি উৎপাদন বেশি হতো ও অধিক লাভবান হতে পারতাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, এই মৌসুমে লাউসহ বিভিন্ন সবজি বীজ ৫০ জন কৃষাণীকে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনায় মহিলারা লাউ চাষ করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এখন প্রায় সারা বছরেই সবজি চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষক-কৃষাণীরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। সেই সাথে লাউয়ের আবাদে অনেক কৃষক-কৃষাণীর বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে লাউয়ের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য দামে লাউ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রণোদনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সবজি আবাদ বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন