ধরুন্দ বাঁধ নিয়ে ধান্দাবাজি

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:১৮

সংগৃহীত ছবি

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওর বর্ধিতাংশ ধরুন্দ ক্লোজার বাঁধের কাজ পিআইসি গঠনের জটিলতায় এখনো শুরু করা হয় নি। সময়মত বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম তার ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন, ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২৫ জানুয়ারি পেরিয়ে গেলেও কেন হাওরের ভাঙ্গাসমূহের কাজ শুরু হয় নি। কাজ শুরু না করার কারণে আগাম বন্যার ঝুঁকিতে থাকবে মাটিয়ান হাওরের বোর ফসল।


তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততায় তাহলে কি বোর ফসল অরক্ষিতই থাকবে। বাঁধের কাজ পাইতে  (পেতে) জানা অজানা তদবির ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তহীনতায় এখনো কাজ শুরু হয় নি।

 


ধরুন্দ ক্লোজার বাঁধ নির্মাণ নিয়ে কথা হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনির হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ধরুন্দ ক্লোজার বাঁধটির কাজ দেয়া হয় ইউনুছপুর গ্রামের সাজিদুর ও ধরুন্দ গ্রামের নেকবর আলীকে। সেখানে সাজিদুর প্রকল্পে সভাপতি ও সদস্য সচিব করা হয় নেকবর আলীকে। তারা প্রকল্প এলাকাতে এক্সকেভেটর মেশিন এনে বাঁধের কাজ করেছিল। স্থানীয় একটি পক্ষের বাধার কারণে তারা কাজ শুরু করতে পারছে না। স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে কাজটি শুরু করতে বাধার সম্মুখীন আমরা। রবিবার রাতে এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে।

 


ধরুন্দ ক্লোজারের প্রকল্প সভাপতি ইউনুছপুর গ্রামের বাসিন্দা সাজিদুর মিয়া বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাঁধের কাজের জন্য দরখাস্তের আহবান করা হলে তিনি নেকবর আলীকে সদস্যসচিব দিয়ে একটি আবেদন করেন। অপর আরেকটি আবেদন করেন বাদাঘাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর গ্রামের আক্তার হোসেন। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড উপজেলা কমিটি ধরুন্দ বাঁধের কাজটি সাজিদুর মিয়া ও নেকবর আলীকে কাজ করার জন্য চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার পরই তারা বাঁধের কাজের জন্য এক্সকেভেটর মেশিন এনে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে শফিকুল ইসলামের বাঁধার কারণে তারা প্রকল্পে কাজ করতে পারছেন না।

 


ধরুন্দ ক্লোজারের প্রকল্প সদস্য সচিব ধরুন্দ গ্রামের বাসিন্দা নেকবর আলী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদের কাজ দিয়েছে। আমরা কাজ পেয়ে মেশিন এনে কাজ শুরু করেছি। এখন তারা বলে কাজটি শফিকুল ইসলামদের দিবে। পরে আমরা পাউবো’র এসও সাহেবকে বলেছি প্রকল্প সাইটে মেশিন এনে কাজ করে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আমাদের সে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেন, আমরা কাজটি ছেড়ে দিই।

 


এ বিষয়ে ইসলামপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, সাজিদুর মিয়া কাজ পেয়ে থাকলে তারা কাজ করুক, তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ধরুন্দ ক্লোজার বাঁধটি দু’একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবে। প্রকল্প এলাকাতে প্রকল্পের লোকজন মেশিন এনে রেখেছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার