ধীরগতির কাজে গতি ফেরাতে মেয়াদ বৃদ্ধি

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:০৯

সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক

পরিকল্পনা কমিশন ও সড়ক পরিবহন উইংয়ের সুনামগঞ্জ-মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ-হবিগঞ্জ মহাসড়কের শাল্লা-জলসুখা অংশ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা এবং হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কের রূপ নিচ্ছে। কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। হাওর এলাকার স্বপ্নের এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা, যা আঞ্চলিক আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

 


এছাড়াও সুনামগঞ্জের মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ-সরাইল হয়ে ঢাকা যাতায়াতের জন্য জেলার সাথে একটি নতুন বিকল্প সড়কপথ তৈরি হবে। হাওরের বুক চিরে বিকল্প এই সড়কটি নির্মিত হলে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ৬৫ কিলোমিটার কমিয়ে আনবে। 

 


সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ১৯ টি সেতু নির্মাণ কাজ চলমান আছে। জনজেবি এসবিএস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ জয়েন্ট বেঞ্চারে আরও চারটি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করছে। 
২০২২-২০২৩ অর্থবছরে কাজটি শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও, হাওরাঞ্চলের বন্যাকবলিত এলাকা হওয়ায় এবং নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় মাঝে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। সময় এক্সটেনশন করে ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সুনামগঞ্জের কাঠইর-দিরাই-শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ-লাখাই-সরাইল হয়ে সরাসরি ঢাকার সাথে যোগাযোগপথ হলে দূরত্ব অনেকাংশেই কমে আসবে এবং এই সড়কটি চালু হলে হাওর অঞ্চল থেকে ঢাকা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জের কাঠইর- মদনপুর এলাকার সেতু সহ দিরাই-শাল্লা-আজমিরিগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৪ টি সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সড়কের সিংহভাগ কাজ দৃশ্যমান হয়েছে।  
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাল্লা উপজেলার বাসিন্দা রনি চৌধুরী বলেন, সড়কটি নির্মিত হলে দিরাই- শাল্লাবাসীর অনেক সুবিধা হবে। দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে, আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। এখন ঢাকায় যেতে সময় লাগে প্রায় ৮ ঘন্টা, সড়কে কাজ শেষ হলে লাগবে ৪ ঘন্টা। এছাড়াও হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান, মাছ সহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী ঢাকায় পৌঁছানো সহজ হবে এবং ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে আসতেও সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ে এই সড়কপথের কাজটি শেষ করলে খুবই ভালো হবে। কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে তাড়াতাড়ি কাজটি সম্পন্ন করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। 


দিরাই উপজেলার বাসিন্দা শঙ্কর দেব বলেন, দিরাই-শাল্লার এই সড়কটি নির্মিত হলে ঢাকায় কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবো। এছাড়াও হাওরাঞ্চলে এই সড়কটি একটি দৃষ্টিনন্দন এবং ভিআইপি সড়ক হবে। এটি খুবই আনন্দের।


দিরাই উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মোবাশ্বির আলী বলেন, দিরাই-শাল্লার এই সড়কটি কাশিপুর গ্রামের পাশ দিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যুবকরা গাড়ি চালিয়ে আয়-উপার্জন করে চলতে পারবে। প্রয়োজনীয় মালামালসহ ধান- মাছ ঢাকায় পৌছানো সহজ হবে, আমরা সঠিক মূল্য পাব।

 


সড়কের কাজটি যারা করছেন তাদের নিকট অনুরোধ থাকবে, কাজটি যেন টেকসই এবং ভালো হয়। কারণ সড়কের কাজ ভালো না হলে আমরা মাঝপথে আবারও দুর্ভোগের শিকার হবো।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল হামিদ বলেন, মদনপুর- দিরাই-শাল্লা-আজমিরীগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের সড়কটি দুইটি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কপথ কাজটি জনজেবি এসবিএস ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সহ আরও চারটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের শাল্লা উপজেলায় জলশুকা অংশের ৭০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  দিরাই - শাল্লা অংশে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৬০% হয়েছে। হাওরাঞ্চল হওয়ায় জেলায় বছরের চার থেকে পাঁচ মাস কাজ করা যায়। সেজন্য কাজটি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে শুরু করা গেলেও এখন পর্যন্ত শেষ করা সম্ভব হয় নি। কাজটি যদিও ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল। শতভাগ কাজ শেষ করতে পারিনি বলে সময় এক্সটেনশন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এই পর্যন্ত প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজের মধ্যে ১৪ টি ব্রিজের কাজ শেষ পর্যায়ে। বেশিরভাগ কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে। যেহেতু হাওরাঞ্চল, সেহেতু এই এলাকায় ক্রস ড্রেনের পরিমাণ বেশি রাখা হয়েছে।  
তিনি আরও বলেন, এই এলাকার উপর দিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ঢল নেমে আসে, সেই ঢলের পানি দ্রুত নামানোর জন্যই ক্রস ড্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজের নির্মাণ সামগ্রীর দুস্পাপ্যতার কারণে কাজের গতি কিছুটা স্লথ হয়েছে। এছাড়া হাওর এলাকায় মাটি এবং বালি পাওয়া খুবই দুষ্কর। এরপরও ডেভেলপমেন্ট পার্টনাররা চেষ্টা করে যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কটির উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে পারব বলে আমরা আশা করছি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার