প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৫৬
বিশ্বম্ভপুরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমি থেকে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের গন্ডামারা নদীতে ৭ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) আওতায় বাঁধ নির্মাণে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে এসব অনিয়ম হচ্ছে।
জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বাঁধের কাজের স্থানে প্রকল্পের সাইনবোর্ড টাঙানোর কথা থাকলেও তা নেই। এছাড়া পিআইসির সভাপতি, সদস্য সচিবসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কোনো সদস্যকেই কাজের স্থানে দেখা যায় না। অভিযোগ রয়েছে, পিআইসিদের সঙ্গে আঁতাত করে প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশের ফসলি জমি থেকে এক্সকেভেটর দিয়ে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে সেই মাটি মাহিন্দ্র ট্রাকে করে বাঁধে ফেলা হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় দুরমুজও করা হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষক সবুজ মিয়া ও মানিক মিয়া বলেন, এই জমিতে আগে বাদাম চাষ হতো। এখন গভীর গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করায় আর চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। এতে আশপাশের জমিগুলোও ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকার কাসেম মিয়া বলেন, নির্বাচনের সময় সংশ্লিষ্ট সকলে ব্যস্ত থাকায় বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। যেভাবে কাজ চলছে, তাতে পাহাড়ি ঢল থেকে ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন, ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয় নি।
এ বিষয়ে ৭ নম্বর পিআইসির সভাপতি নুরুল হক বলেন, জমির মালিকের কাছ থেকেই মাটি কেনা হচ্ছে এবং সেই মাটিই বাঁধে ফেলা হচ্ছে। এতে ফসলি জমির কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। এছাড়া জমিও আমাদেরই।
পাউবোর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) গোলাম কিবরিয়া বলেন, মাটি কোথা থেকে আনা হবে সেটা প্রকল্প সভাপতির বিষয়। অনিয়মে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্বম্ভপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মতিন খান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, জেলার ১২টি উপজেলায় প্রায় ৫৩টি হাওরে চলতি মৌসুমে ৭০২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা। মোট ৫৮৫ কিলোমিটার প্রাক্কলিত বাঁধের মধ্যে ১০৪টি স্থানে ক্লোজার (ভাঙা) রয়েছে। হাওরের কৃষক ও ফসলের নিরাপত্তায় সরকার প্রতি বছর এসব বাঁধ নির্মাণে বড় অঙ্কের বরাদ্দ দিয়ে থাকে এবং এ বছরও যথাসময়ে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন