‘ছাইয়া কিত্তা’ বাঁধে ধস

প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৮

দেখার হাওরে ফসল নিয়ে শঙ্কা

শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের ছাইয়া কিত্তা ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ছে। এতে কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ১৮ নম্বর পিআইসির অধীনে নির্মাণাধীন ১৮৮১ মিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক জায়গায় ধস ও বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।  কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

 


স্থানীয় কৃষক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েক বছর আগে বর্ষা মৌসুমে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ছাইয়া কিত্তি অংশে মহাসিং নদী ও বাঁধের পাশ থেকে ভিট বালু উত্তোলন করা হয়েছিল। একারণে ছাইয়া কিত্তা বাঁধের দুই পাশে ২০২৩ অর্থ বছরে ২৭ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং বাঁধ নির্মাণ কালে বাঁধে ধস ও ফাটল ধরে। পরবর্তীতে আবারও ২০২৪ অর্থ বছরে একই অংশে বাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেয়। উভয় বছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেন। 


সরেজমিনে গত শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে আবারও ছাইয়া কিত্তা অংশে বাঁধে ধস ও একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় বাঁধের মহাসিং নদীর অংশে মাটি ধসে পড়েছে এবং একাধিক জায়গায় ফাটল দেখা যায়।

 


কৃষকরা বলছেন, বাঁধ নির্মাণের আগে এসব সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে এ পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। নদীর গভীর গর্ত ও অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের কারণে প্রতি বছরই এই বাঁধে ধস দেখা দেয়। এখন বাঁধের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 


১৮ নম্বর পিআইসির সাধারণ সম্পাদক সুন্দর আলী বলেন, বাঁধের কাজ শেষ পর্যায়ে। ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। শেষ পর্যায়ে এসে ছাইয়া কিত্তার অংশে একাধিক ফাটল ও বাঁধে ধসেছে। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রকল্পের মধ্যে ছিল না। কিন্তু ধসের কারণে এখন নতুন করে কাজ করতে হবে।

 


১৮ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি দুদু মিয়া বলেন, ১৮ নম্বর পিআইসির অধিনে ১৮৪১ মিটার কাজ কাগজে কলেমে থাকলেও অতিরিক্ত আরও ২৪১ মিটার কাজ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসিং নদীর পানি কমে যাওয়ার নদীর পাড়ের অংশে গভীর গর্ত হওয়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো হাওরের ফসল হুমকির মুখে পড়বে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যা জানালেও স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো পাওয়া যায় নি।
হাওর পাড়ের কৃষকরা বলছেন, ধসের কারণে যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পুরো দেখার হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলে বোরো ফসলই প্রধান আয়ের উৎস, যা সঠিক ভাবে রক্ষা করা না গেলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তারা দ্রুত বাঁধের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে হাওরের পানি সরানোর কারণে নদীর তীরে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব দুর্বল করে দিয়েছে।

 


পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ছাইয়া কিত্তি অংশে ফাটল ও ধস হওয়া বাঁধের অংশ পরিদর্শন করেছি। ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। শীঘ্রই সার্ভে টিমের মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার