প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২৩ ০৪:২৯
অরক্ষিত হাদাটিলা সামাজিক বনায়ন
প্রহরী থাকা সত্তে¡ও অবাধে গাছ কেটে বিক্রি করে ধ্বংস করা হচ্ছে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধিন ছাতকের হাদাটিলা সামাজিক বনায়ন।প্রায় প্রতি রাতেই দুর্বৃত্তরা বনায়নের ছোট-বড় গাছ কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব গাছ স-মিল মালিকদের কাছে গোপনে বিক্রি করছে একটি চক্র।পাশাপাশি টিলা কেটে নিয়মিত পাথর উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের ফলে গোড়ার মাটি সরে বনায়নের গাছগুলোও অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে।অল্প বাতাসে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে গাছ।
আবার উপড়ে পড়া এসব গাছ বিভিন্ন অজুহাতে রাতারাতি সরিয়ে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।ফলে একদিকে উজার হচ্ছে বন বাগান, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে স্বাভাবিক সবুজ পরিবেশ।বন বিভাগের নির্দেশেই বনায়নের গাছ বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ছাতক বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধিন উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের হাদাটিলায় রয়েছে একটি বিশাল সামাজিক বনায়ন।প্রায় ৭৫ একর টিলারকম ভূমিতে বিভিন্ন দেশী-বিদেশী প্রজাতীর গাছ নিয়ে হাদাটিলা সামাজিক বনায়নে গড়ে উঠেছে সবুজ পরিবেশ।
সামাজিক বনায়নের পরিসর বৃদ্ধি করার জন্য হাদাটিলা সংলগ্ন আরও ৩০-৩৫ একর সরকারি পতিত সমতলভূমি বনবাগের আওতায় আনা হয়েছে।এসব সমতল ভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও মুর্তা বাগান গড়ে তোলার জন্য গাছের চারা রোপন কার্যক্রম চলছে। টিলার পাশেই রয়েছে বন বিভাগের একটি ঘর।বনায়ন রক্ষার ক্ষেত্রে বন বিভাগ থেকে নিয়োগ পাওয়া ২ জন প্রহরীও দায়িত্ব পালন করছেন এখানে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বনায়নের কয়েকশ’ ছোট-বড় গাছ ইতোমধ্যেই কেটে নেয়া হয়েছে।সাক্ষী হিসেবে রয়েছে এসব গাছের গোড়া।কিছুকিছু কাটা গাছের গোড়া শুকনো লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।গোড়ার মাটি খুঁড়ে ফেলায় বেশ কয়েকটি গাছ পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন খেকোদের কারণে কোনভাবেই সামজিক বনায়ন রক্ষা করা যাচ্ছে না।স্থানীয় একটি চক্র বন কর্মকর্তাদের নির্দেশনার দোহাই দিয়ে অবাধে বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি করছে।পাশাপাশি দাপটের সাথে টিলা কেটে পাথর উত্তোলন ও বিক্রি করছে চক্রটি। মাঝেমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর-পাকড় করলেও বন খেকো এ চক্রটির অপকর্ম বন্ধ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক বন প্রহরী আব্দুল আলী জানান, অবৈধ কাজে বাধা দেয়ায় তিনি চাকুরি হারিয়েছেন।বর্তমানে বন প্রহরী এনায়েত ও নিজাম উদ্দিনের সহায়তায় আকবর নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি সামাজিক বনায়নে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি বনায়নের বাদশা আকবর। টিলার পাশেই তার বসবাস।তার রয়েছে নিজস্ব দুইটি ট্রলি গাড়ি। গাছ কেটে ও পাথর উত্তোলন করে তার নিজস্ব ট্রলি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়।
প্রায় সময়ই তিনি বনায়নের মালিক হিসেবেও দাবি করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।এ ক্ষেত্রে ছাতক বন বিভাগের কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হাত রয়েছে বলে আব্দুল আলী জানান। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের স্ত্রী জানান, বন কর্মকর্তার নামে প্রায়ই বড়-বড় গাছ কেটে নিচ্ছে আকবর। বন থেকে শুকনো লতাপাতা তারা কুড়িয়ে আনতে গেলে আকবর তাদের বাধা দেয়।গোপনে গাছ কেটে বিক্রির জন্যই তাদের বনায়নে ঢুকতে বাধা দেয়া হয় বলে তিনি জানান।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় হাদাটিলা সামাজিক বনায়ন ক্রমেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন বন বাগানে গাছ লাগানোর নামেও লুটপাট করা হচ্ছে সরকারি লাখ-লাখ টাকা।ভুয়া টিপসই দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাস্টাররোল। অনিরাপদ হয়ে পড়ছে হাদাটিলা সামাজিক বনায়ন ও নতুন বন বাগান।সম্প্রতি জালাল উদ্দিনের বাড়ির পাশ থেকে বনায়নের একটি বড় গাছ কেটে স্থানীয় একটি স মিলে বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় লোকজনদের চাপে ১৫ অক্টোবর স-মিল থেকে গাছটি জব্ধ করেন ছাতক বন কর্মকর্তা।বন কর্মকর্তা খান আনোয়ার হোসেন এসব অভিযোগ নাচক করে দিয়ে বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি গাছ চুরি করে কাটা হয়েছিল।গাছ জব্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। মুর্তা বাগান ও নতুন গাছ বাগানের কার্যক্রম সঠিকভাবেই চলছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন