প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২৩ ০৮:৩১
কয়েক বছর ধরে তাহিরপুরের বড়গোপ টিলার উপর সড়কের বেহাল দশা হলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের। এতে কংক্রিটের খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটকেরা। পাহাড়, নদী আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধন বড়গোপ টিলা।
সবুজে মোড়া উঁচু টিলার এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে স্বচ্ছ জলের জাদুকাটা নদী। টিলার ওপর দাঁড়ালে হাতছানি দেয় মেঘ-পাহাড়। প্রকৃতির এমন সৌন্দর্যের মেলবন্ধন দেখতে বড়গোপ টিলায় ছুটে আসেন পর্যটকরা। তবে সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখে চোখ জুড়ানোর পরিবর্তে শঙ্কা আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর তাহিরপুরে এসে বড়গোপ টিলাকে ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র গড়ার ঘোষণা দেন। ২০১৩ সালে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বারেক টিলায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসন।
২০১৬ সালের ২০ জুন মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে বড়গোপ টিলার ৫০ শতক জমিতে ‘আমব্রেলা প্রকল্প’ স্থাপনের নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখনো কোনো কাজই শুরু হয়নি। টিলায় মোট ৩১২ একর জমি আছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার বাস করে আসছে। টিলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্যাশ্রয় কেন্দ্র ও উপাসনালয় (গির্জা) রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়গোপ টিলার পূর্বে যাদুকাটা নদী, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, পশ্চিমে কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর গ্রাম। গ্রামের পরে ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প, এর দক্ষিণে টাঙ্গুয়ার হাওর। সব মিলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এলাকাটি।
টিলার ওপর নতুন করে বেশ কিছু ঘরবাড়ি হয়েছে। টিলার মাঝখান দিয়ে একটি ছোট রাস্তা গেছে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে। এই পথ দিয়েই টাঙ্গুয়ার হাওর, ট্যাকেরঘাট শহীদ সিরাজ লেক ও বড়ছড়া-চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনে যাতায়াত করতে হয়। টিলার আঁকাবাকা সড়কটি ভেঙে চলার অনুপযোগী হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
সম্প্রতি ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বড়গোপ টিলার নিচ দিয়ে সড়কের প্রাক্কলন হয়েছে। এতে বাদ পড়ে যাচ্ছে টিলার উপরের সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্কর মারাক বলেন, বড়গোপ টিলার ওপরে এনজিওর রাস্তা ছিল। পরে এলজিইডি’র মাধ্যমে সড়ক উন্নত করা হয়। এখন সে সড়ক ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। অথচ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ সহ্য করে স্থানীয়সহ প্রচুর পর্যটক চলাচল করে। এই দুর্ভোগ থেকে উত্তোরণের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানাই।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মো. শাহাজাহান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে সুন্দর পরিবেশ, বাহন ও পর্যটক আসবে না।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল দিতেও অসুবিধা হচ্ছে।পর্যটক সুপ্রিয়া দাস বলেন, হাওর, নদী, পাহাড় একসঙ্গে এখানে রয়েছে। এতো সুন্দর, নির্জন প্রাকৃতিক শোভামÐিত জায়গায় এসে ভালো লাগছে। তবে টিলার ওপর সড়কের বেহাল অবস্থা, কংক্রিট বের হয়ে আছে। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গাজিপুর থেকে বেড়াতে এসেছেন মো. মাসুম। তিনি বলেন, শহীদ সিরাজ লেক থেকে ঘুরে জাদুকাটা ও মেঘালয়ের সৌন্দর্য দেখতে বড়গোপ টিলায় এসেছি। প্রতি বছরই আমরা এখানে আসি। আসার পরে একটা সমস্যার মুখোমুখি হই। সড়কের বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে। মানসিক প্রশান্তির জন্য এসে দুর্ঘটনার শিকার হলে, তার মতো দুঃখজনক আর কিছু নেই। আমরা যারা প্রকৃতি ভালোবাসি, তাদের জন্য এই সড়টি মেরামত করা হলে ভালো হতো।
মোটরসাইকেল চালক মো. আমিনুল হক বলেন, পর্যটকদের পাশাপাশি এই এলাকার মানুষদের চলাচলের প্রধান সড়ক এটি। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনার কিছু মানুষ এদিকে চলাচল করে। আমরাও এদিকে যাত্রীদের নিয়ে আসি। অনেক সময় ভাঙা সড়কের জন্য দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়, মোটরসাইকেলের পার্টস নষ্ট হয় বারবার।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বললেন, শিমুল বাগানের পাশ থেকে বড়গোপ টিলা হয়ে যে সড়কটি গেছে সেটি পর্যটন কর্পোরেশনের মাধ্যমে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন