প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২৩ ০৮:৫১
নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রবিবার থেকে ৪র্থ দফায় ৪৮ ঘন্টার অবরবোধ চলছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা অবরোধের প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। ব্যবসায়-বাণিজ্যে ও দৈনিক আয়-রোজগারে পড়েছে ভাটার টান।
অন্যান্য সময়ের তুলনায় দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান চালক, নিম্ন, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যবসায়ীদের উপার্জন অর্ধেকে নেমেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন পরিবহন সেক্টরের সাথে জড়িত থাকা অনেক শ্রমিক। যদিও অবরোধ উপেক্ষা করে স্থানীয়ভাবে কিছু যানবাহন চলাচল করছে, তবে সিলেট-সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর-দিরাইগামী যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা একেবারেই কম।
যার প্রভাব পড়েছে উপজেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপরও। পথে পথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা, গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যানবাহন না পাওয়ায় যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেক সময়। অবরোধের মাঝে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া গুণতে হওয়ায় বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। উপজেলার বাজারগুলোতে কমেছে ক্রেতার উপস্থিতি, কমেছে বেচাকেনা।
রবিবার দুপুরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজার, শান্তিগঞ্জ বাজার, আক্তাপাড়া মিনাবাজার, নোয়াখালী বাজার ও পাথারিয়া বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় বাজারগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা কম। স্থানীয় কিছু মানুষ ও বিক্রেতা ছাড়া বাজারে তেমন ক্রেতা নেই।
এর কারণ অনুসন্ধান করে জানা গেছে, অবরোধ হওয়ায় বাইরের ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটবাজারে আসতে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। যতটুকু পারছেন নিজেদের পাড়ার দোকানিদের কাছ থেকে বাজার সদাই করছেন। দূর-দূরান্তের উপরি ব্যবসায়ীরাও আসছেন কম। গাড়ি ভাড়া বেশি হওয়ায় বাইরের অনেক ব্যবসায়ীরাও দোকান নিয়ে বাজারে বাজারে আসছেন না।
এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও পয়েন্টে পুলিশের তৎপরতা বেশি থাকার কারণে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, লেগুনা ও বাসের একাধিক চালক। তবে রাস্তায় বড় বাসগুলো তুলনামূলক কম দেখা গিয়েছে। এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে৷
পুলিশের উপস্থিতিতে ছোট ছোট যান চলাচল করলেও চাকলকদের মনে চোরাগোপ্তা হামলার আতঙ্ক কাজ করছে সব সময়। মাঝে মধ্যে যে বাসগুলো চলতে দেখা গিয়েছে সেগুলো নিজেদের দায়িত্বে রাস্তায় চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।সংকর দাস নামের একজন চালক বলেন, আমি সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর লাইনে গাড়ি চালাই। অন্যান্য সময়ের তুলনায় বর্তমানে লাইনে গাড়ি কম। যাত্রী খুব একটা বেশি না, তবে চলার মতো। পয়েন্টে পয়েন্টে পুলিশ আছে, তারা আছেন বলেই আমরা গাড়ি নিয়ে বের হই। সরকারও আমাদের অভয় দিয়েছেন।
আসলে মানুষ এখন আর অবরোধ চায় না। পাগলা বাজার বাসস্ট্যান্ডে লাইন্সম্যানের কাজ করেন রয়েল আহমদ। বিনিময়ে সামান্য পারিশ্রমিক পান তিনি। যতদিন ধরে অবরোধ ততদিন ধরেই পারিশ্রমিক বন্ধ তার। তবু প্রতিদিন নিয়ম করে ডিউটিতে আসেন। রয়েল আহমদ জানান, রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে, কিন্তু তা একেবারেই কম।
পাগলা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালান পঞ্চাশোর্ধ আশকর আলী। সাত জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। যানবাহন যত বেশি চলবে, তার উপার্জন তত বেশি। বাইরে থেকে বিভিন্ন পণ্য আসলে তার ভ্যানের চাকা ঘুরে। হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই উপার্জন কমেছে। বর্তমানে টানাপোড়েন চলছে তার পরিবারে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রবিবার বিকাল ৩টা) সারা দিনে এক টাকাও উপার্জন করতে পারেননি তিনি। দেলোয়ার হোসেন নামের এক চা বিক্রেতা বলেন, হরতাল-অবরোধ না হলে আমার দোকানে যত টাকা দৈনিক বেচাকেনা হয় বর্তমানে তা অর্ধেকেরও কম। হাটবাজারে মানুষ থাকে কম। বিক্রিও হয় কম। আমরা সাধারণ মানুষরাই আছি বড় বিপদে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন