কাজ চলাকালে ২টি পিআইসির কার্যাদেশ বাতিল

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৮

সু.খবর ছবি

শাল্লা উপজেলার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম এবং প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম মেনে প্রকল্পের বড় অংশ সম্পন্ন করার পরও রহস্যজনকভাবে ১২২ নম্বর ও ৭১ নম্বর পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) এর কার্যাদেশ বাতিল করায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ  বিরাজ করছে। অন্যদিকে ৭০ নম্বর পিআইসিতে জমিহীন ব্যক্তি এবং মামলার আসামিকে পিআইসিতে অন্তর্ভুক্ত করায় স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। 


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের আওতায় জগন্নাথপুর থেকে বিষ্ণুপুর নতুনহাটি (১২২ নম্বর) এবং বিষ্ণুপুর নতুনহাটি হতে সেচ পাম্প পর্যন্ত (৭১ নম্বর) পিআইসি গঠন করা হয়। নীতিমালা মেনে গঠিত উভয় কমিটি কার্যাদেশ পেয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করে।
১২২ নম্বর পিআইসির সদস্য রাধাগোবিন্দ দাস জানান, তারা ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ মাটির কাজ শেষ করেছেন। এসময় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান তিনি। 


৭১ নম্বর পিআইসির সদস্য প্রসেনজিত দাস জানান, প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই হঠাৎ শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক  মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পরে তাদের বৈধ কার্যাদেশ বাতিল করে অন্য ব্যক্তিদের নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। 


৭০ নম্বর পিআইসি গঠন নিয়ে কৃষক শনিলাল দাসের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, এই কমিটির সদস্য সচিব রাজেন্দ্র চন্দ্র দাসের প্রকল্পের আওতায় কোনো জমি নেই। অন্যের জমি বা বিক্রিত সম্পত্তির ভুয়া খতিয়ান দেখিয়ে তিনি কমিটিতে স্থান করে নিয়েছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, এই কমিটির সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র দাস উত্তরা পূর্ব থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার (মামলা নং- ১৩, ২৬/০৯/২০২৪ইং) এজাহারভুক্ত আসামি। একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং ভূমিহীন ব্যক্তি কীভাবে হাওর রক্ষা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।  


শাল্লা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বলেন, আমরা নীতিমালার আলোকেই কাজ করছি। ১২২ ও ৭১ নম্বর পিআইসির কাজে কিছু কারিগরি ত্রুটি ও স্থানীয় বিরোধের কারণে কাজ বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নতুন কমিটি দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ চলাকালীন কার্যাদেশ বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।


এ বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। 
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াও অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার